Bidyut_Chakraborty_Alt_Bangla
- বিজ্ঞাপন -

২৫শে আগস্ট ২০২০ একটি বিবৃতিতে বিশ্বভারতীর উপাচার্য শ্রী বিদ্যুৎ চক্রবর্তী বলেন যে “কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বহিরাগত” । এর সাথে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে পৌষ মেলার মাঠে বিভিন্ন রকম অসামাজিক কার্যকলাপের বিষয় নিয়েও অভিযোগ করা হয়। বিজেপি নেত্রী দাবী করেন সেক্স র‍্যাকেট চালানো হ্য বলেও।

আরো পড়ুনঃ এক্সরের রেট ২৫০/- হলেও মোট খরচ ৭৫০/- ব্যবহৃত পিপিই কিটের নামে অবাধ লুট গড়িয়ায়

- বিজ্ঞাপন -

কোনোভাবেই এই ঘটনা মেনে নেয়নি বাংলার প্রথম মুক্তপন্থী বাঙালি জাতীয়তাবাদী সংগঠন ঐক্য বাংলা। পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রককে লিখিত আবেদন জানানো, সামাজিক মাধ্যমের যথাসম্ভব ব্যবহার করে বিপুল জনমত গড়ে তোলা – কোন কিছুই বাকি রাখেনি এই এক বছরেরও অল্প বয়সী ছোট্ট বাংলার মুক্তপন্থী জাতীয়তাবাদী সংগঠনটি।

আরো পড়ুনঃ বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পালের মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বহুমুখী কর্মসূচির আয়োজন করল ‘ঐক্য বাংলা

সম্ভবত এই প্রতিবাদ এর জেরেই আপামর বাঙালি সমাজে নিন্দার ঝড় ওঠে। শুধু এটুকুতেই থেমে থাকেনি ঐক্য বাংলা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এইসব বাঙালি বিরোধী মন্তব্যের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবে বলে নিজেদের সামাজিক মাধ্যমে তারা পরিষ্কার জানিয়ে দেয়।

আরো পড়ুনঃ  বাঙালি জাতির উদ্দেশ্যে নিকৃষ্টতর উক্তি বিজেপির সদস্য তথা ত্রিপুরা ও মেঘালয়ের প্রাক্তন রাজ্যপাল

শেষ পর্যন্ত গতকাল বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী তাঁর এই মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন। আন্দোলনের এই সাফল্যে কি প্রতিক্রিয়া ঐক্য বাংলা জানতে চাওয়ায় ‘ঐক্য বাংলা’ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদিকা শ্রীমতী সুলগ্না দাশগুপ্ত জানান, ” যবে থেকে বিদ্যুৎ চক্রবর্তী এই মন্তব্যটি করেছেন তবে থেকে আমরা সামাজিক মাধ্যমে এর প্রতিবাদ করে গিয়েছি। আমরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর কাছে বিষয়টি তুলে ধরে একটি গণ ইমেইল কর্মসূচির আয়োজন করেছি। এর পরে তাঁর পদত্যাগের দাবিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর কাছে বিষয়টি তুলে ধরে আমরা আরো একটি গণ ইমেইল কর্মসূচির আয়োজন করেছিলাম। সুতরাং উপাচার্যের এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর ক্ষমাপ্রার্থনা নিশ্চিতভাবেই ‘ঐক্য বাংলা’ সহ সমগ্ৰ বাঙালি জাতির জয়।

আরো পরুনঃ  বাঙালি জাতির উদ্দেশ্যে নিকৃষ্টতর উক্তি বিজেপির সদস্য তথা ত্রিপুরা ও মেঘালয়ের প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায়ের

আরো পড়ুনঃ বাঙালি জাতীয়তাবাদ শুধু আবেগ নয়, বাঁচার লড়াই

ঐক্য বাংলার অন্যতম নেতৃস্থানীয় সদস্য অভিজিৎ গুহ নিয়োগী জানান, “সংগঠনের এই জয়ে আমি একজন বাঙালি হিসেবে এবং ঐক্য যোদ্ধা হিসেবে চরম গর্বিত। একই সাথে বাঙালির শত্রুদের এটাও জানিয়ে রাখতে চাই, যে ভবিষ্যতে এই ধরনের আন্দোলন শুধুমাত্র চিঠি দেয়া বা আবেদন করা বা সামাজিক মাধ্যমে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এধরনের রাস্তায় ফলে না হলে আমরা যেকোনো সীমা পর্যন্ত যেতে রাজি আছি বাঙালির সম্ভ্রম রক্ষা করার জন্য।”

আরো পড়ুনঃ মমতা ব্যানার্জী র পর কে হবেন বাংলার মুখ? কে কোন স্থানে অবস্থান করছেন?

কিন্তু সংগঠনের বেশ কিছু সাধারণ সদস্য আরো বেশি আশাবাদী, আরো বেশি প্রত্যাশী সংগঠন কে নিয়ে। ঐক্য যোদ্ধা দেবায়ন সিংহ জনমাধ্যমে জানান, ” আমি এটাকে আংশিক জয় বলব। পুরোপুরি জয় তখনই হবে যখন বিদ্যুৎ চক্রবর্তী উপাচার্য পদ থেকে পদত্যাগ করবেন। “

আরো পড়ুনঃ ভারতীয় রাজনীতির আঙ্গিনায় ক্রিমিনাল দের অধিপত্য

ঐক্য বাংলা সংগঠনের আরেকজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ঐক্যযোদ্ধা সৌম্য চৌধুরী বলেন, ” এটি নিঃসন্দেহে বাংলাদ্রোহী ও বাঙালি বিদ্বেষীদের কাছে একটি বার্তা দেবে যে বাঙালি জাতির মহীরুহদের অপমান করে পার পেয়ে যাওয়ার দিন শেষ হয়ে গিয়েছে। ঐক্য বাংলা সেটা সুনিশ্চিত করছে এবং করবে।”

আরো পড়ুনঃ চিরবিদায় জানালেন প্রণব মুখার্জী – একমাত্র বাঙালি (প্রাক্তন) রাষ্ট্রপতি

বোঝাই যাচ্ছে মাত্র সাত মাস বয়সী বাংলার প্রথম মুক্তপন্থী বাংলা জাতীয়তাবাদী সংগঠন ‘ঐক্য বাংলা’ একের পর অভিনব কর্মসূচি গ্ৰহণ করে সাফল্য অর্জন করে চলেছে তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। এখন এটাই দেখার যে আগামী দিনে কিভাবে তারা আপামর বাঙালি সমাজের কাছে নিজেদেরকে তুলে ধরে।

- বিজ্ঞাপন -