- বিজ্ঞাপন -
হোম আপনার পৃষ্ঠা ঐক্য বাংলা সাইকেলে চেপে দুধ বিক্রী থেকে শুরু করে আজ “রেড কাউ ডেয়ারি’র প্রতিষ্ঠাতা...

সাইকেলে চেপে দুধ বিক্রী থেকে শুরু করে আজ “রেড কাউ ডেয়ারি’র প্রতিষ্ঠাতা – নারায়ণ মজুমদার – ঐক্য বাংলা

১৯৯৭ সালেই আরামবাগে প্রথম চিলিং প্লান্ট খুলে ফেলেন। ধীরে ধীরে ব্যবসা বাড়তে থাকে ব্যবসা। ডানকুনির স্টেশন রোডে বর্তমানে Red Cow Dairy Pvt. Ltd.র ২০ টি চিলিং প্লান্ট আছে যা থেকে দিনে প্রায় ১২০০০০ লিটার দুধ পরিশোধন করা হয়।

1
261
সাইকেলে চেপে দুধ বিক্রী থেকে শুরু করে আজ “রেড কাউ ডেয়ারি’র প্রতিষ্ঠাতা – নারায়ণ মজুমদার – ঐক্য বাংলা
- বিজ্ঞাপন -

ফুলিয়ার সরকারি স্কুল থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে রানাঘাট কলেজে কেমিস্ট্রি পড়তে ভর্তি হন হতদরিদ্র কৃষক পরিবারের এক ছেলে, নাম নারায়ণ মজুমদার। মা,বাবা ছাড়া দুই দিদিকে নিয়ে একদিকে পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থা তথৈবচ। কারণ তার বাবা বিমলেন্দু মজুমদার নিজের স্বল্প জমিতে চাষ করতেন। মা বাসন্তী মজুমদার ছিলেন গৃহবধূ। চাষবাস করে উপার্জিত সামান্য পয়সাতেই কোনওরকমে চলত তাদের সংসার।

নারায়ণের দুই দিদির বিয়ে দিতে গিয়ে সেই জমিটার প্রায় বেশিরভাগটাই বিক্রি করে দিতে হয়েছিল বিমলেন্দু মজুমদারকে। এদিকে নারায়ণ মজুমদারের কেমিস্ট্রিতে মন নেই কারণ, পরিবারের পাশে দাঁড়াতে তাড়াতাড়ি দরকার একটা চাকরি। গ্রামের এক ভদ্রলোক সেই সময় তাকে বলেন ডেয়ারি ফার্মিং নিয়ে পড়াশোনা করতে। বাবাকে জানানোতে বাবাও সম্মতি দিলেও প্রয়োজন ছিল প্রচুর অর্থের।

- বিজ্ঞাপন -

সেই অর্থ জোগাড় করতে তার বাবা বিক্রি করে দিলেন আবশিষ্ট জমি আর সেই জমি বিক্রীর টাকায় ছেলেকে পড়তে পাঠালেন হরিয়ানার কার্নালে। বিমলেন্দু মজুমদার ডেয়ারি টেকনোলজিতে বি টেক পড়তে ভর্তি হলেন ন্যাশনাল ডেয়ারি ইনস্টিটিউটে ১৯৭৫ এ। কিন্তু কলেজে পড়তে প্রয়োজন ছিল যে পরিমাণ অর্থের, তা জোগাড় করতে, কাকভোরে উঠে চলে আসতেন এক দুধের দোকানে। সেখান থেকে দুধ নিয়ে সাইকেলে করে ঘুরে ঘুরে দুধ বিক্রি করতে লাগলেন তিনি কলেজ সংলগ্ন এলাকায়। সকাল সাতটার মধ্যে কাজ শেষ করে হোস্টেলে ফিরে আসতেন আর তারপর কলেজে যেতেন। এভাবেই চলতে থাকে দিনের পর দিন। একদিকে পড়াশোনা আর অন্যদিকে সাইকেলে করে ঘুরে ঘুরে দুধ বিক্রি করে পড়াশোনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের উপার্জন।

১৯৭৯ সালে পড়াশোনা শেষ করে চাকরি পেলেন Kwality Walls কোম্পানিতে। এক বছরের মধ্যেই ডেয়ারি সুপারভাইজার হিসেবে যোগ দিলেন Himalayan Milk কোম্পানিতে। ১৯৮০ সালে যোগ দিলেন Mother Dairy কোম্পানিতে Quality Control পদে। প্রায় ১৫ বছর চাকরি করতে করতে শিখে নেন ডেয়ারি শিল্পের খুঁটিনাটি।

বাংলার মুখঃ স্বাধীনতা সংগ্রা্মী “সুরেশ দে” প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় শ্রীলেদার্স”

এরই মাঝে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন কাকলী দেবীর সঙ্গে। Mother Dairy পর কাজের সুযোগ পেলেন মধ্যপ্রাচ্যের এক কোম্পানিতে প্রচুর মাইনেতে চাকুরী পেয়ে একাই পাড়ি দিলেন বিদেশ। পরে বহু চেষ্টাতেও পেলেন না পরিবারের সকলের জন্যে ভিসা আর তাই বাধ্য হয়েই চাকরি ছেড়ে চলে আসলেন দেশে। যোগদান করলেন Thacker Dairy Products Pvt. Ltd এ।

চাকুরীতে থাকা কালীনই তিনি স্বাধীনভাবে ডেয়ারি ব্যবসা করার পরিকল্পনা করে ফেলেছিলেন আর সেইমতো ১৯৯৭ সালে চালু করলেন Red Cow Dairy। তখন তার বয়স প্রায় চল্লিশের কাছাকাছি। দুধ জোগাড় করতে নিজেই গ্রামের পর গ্রাম ঘুরে বেড়াতেন বাংলার বিভিন্ন গ্রা্মে। তার উদ্যম দেখে পাশে দাঁড়িয়েছিল বাংলার মানুষ। সাধারণ মানুষের থেকে প্রাপ্ত দুধের মাধ্যমেই শুরু হল Red Cow Dairy র যাত্রা। প্রথম বছরে যা উপার্জন করেছেন তার সবটাই চলে যায় ব্যবসা বাড়ানোর কাজে। ১৯৯৭ সালেই আরামবাগে প্রথম চিলিং প্লান্ট খুলে ফেলেন। ধীরে ধীরে ব্যবসা বাড়তে থাকে ব্যবসা। ডানকুনির স্টেশন রোডে বর্তমানে Red Cow Dairy Pvt. Ltd.র ২০ টি চিলিং প্লান্ট আছে যা থেকে দিনে প্রায় ১২০০০০ লিটার দুধ পরিশোধন করা হয়।

তারপর দুধের প্যাকেজিং করে পাঠানো হয় বিভিন্ন জায়গায়। এর পাশাপাশি দুগ্ধজাত পদার্থের ব্যবসা করার জন্যে নারায়ণ মজুমদার খুলে ফেলেন Red Cow Dairy Pvt. Ltd. -র এক সাবসিডিয়ারি কোম্পানি Kolkata Dairy Products Pvt. Ltd. ডানকুনির কাছে পঞ্চগড়হাতে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের পাশেই আছে এই সাবসিডিয়ারি কোম্পানির প্ল্যান্ট। সেখানে উন্নত প্রযুক্তিতে তৈরী হচ্ছে রসগোল্লা, পনির, আইসক্রিম, বিভিন্ন মিষ্টি, ঘি, দই, গোল্ড মিল্ক, লস্যি ইত্যাদি।

বর্তমানে এই কোম্পানিটির ২০০ টির উপর ডিস্ট্রিবিউটর আছে। সমগ্র বাংলা জুড়ে দুধ সংগ্রহ করা হয়। কর্মসংস্থান হয়েছে হাজারের কাছাকাছি মানুষের। টার্নওভার বছরে ৫০০ কোটি টাকার উপরে। বহু ফুড টেকনোলজিস্ট, ডেয়ারি টেকনোলজিস্ট নিরন্তর পরিশ্রম করে চলছেন এই কোম্পানিতে। প্রত্যেকটি প্ল্যান্টেই ব্যবহৃত হচ্ছে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি।

Red Cow Dairy Pvt Ltd

বাংলার মুখঃ ১০০ বছর আগে শুরু হয়েছিল স্বদেশী ‘মার্গো’ সাবানের জয়যাত্রা যার নেপথ্যে ছিলেন একজন বাঙালি খগেন্দ্র চন্দ্র দাস।

নারায়ণ মজুমদারের পাশাপাশি তার স্ত্রী কাকলী মজুমদার, পুত্র নন্দন মজুমদার, কন্যা উর্মিলা মজুমদারও ব্যবসার হাল ধরেছেন। প্রোডাক্টের গুণগত মানের সঙ্গে কোনও আপোষ করে না Red Cow Dairy। নারায়ণ মজুমদার হয়ে উঠেছেন সকলের অনুপ্রেরণা।

তার নিজের কথায়, “Red Cow Dairy, one of the largest in Eastern India stands on the four pillars of Skill, Service, Super Quality and Safety. Every product that comes out from our factories passes through stringent quality checks at every step. We intend to deliver not only dairy products but items so pure that they make every moment happy to homes across the nation“.

কে বলে বাঙালি ব্যবসা জানে না?”

কৃতজ্ঞতা স্বীকার : অভীক মন্ডল

- বিজ্ঞাপন -

1 মন্তব্য