- বিজ্ঞাপন -
হোম অল্ট বাংলা বাংলার মুখ স্বাধীনতা সংগ্রামী “সুরেশ দে” প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় শ্রীলেদার্স” – ঐক্য...

স্বাধীনতা সংগ্রামী “সুরেশ দে” প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় শ্রীলেদার্স” – ঐক্য বাংলা

মাস্টারদার সেদিনের সেই ৬৫ জনের দলের মধ্যেই ছিলেন ২১ বছর বয়সের সুরেশ দে। জালালাবাদের যুদ্ধে পুলিশের গুলিতে মারাত্মক আহতও হয়েছিলেন তিনি।

1
106
স্বাধীনতা সংগ্রামী “সুরেশ দে” প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়  শ্রীলেদার্স” – ঐক্য বাংলা
- বিজ্ঞাপন -

পা ঢাকা জুতো হোক বা হাওয়াই কিংবা কিটো। জুতো বললেই বাঙালির প্রথম পছন্দের তালিকায় চলে এসেছে শ্রীলেদার্স। আর প্রায় সমস্ত মডেলের, স্বল্প মূল্যে, সাধারণ মানুষের নাগালের সমস্ত রকম জুতোর কোম্পানীর প্রতিষ্ঠাতা শ্রী সুরেশ দে একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী, যিনি মাষ্টার দা সূর্য সেনের বিস্বস্ত সেনানীর একজন।

- বিজ্ঞাপন -

আরো পড়ুনঃ সাইকেলে চেপে দুধ বিক্রী থেকে শুরু করে আজ “রেড কাউ ডেয়ারি’

১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল চট্টগ্রামের ব্রিটিশ অস্ত্রাগার লুন্ঠনের পরিকল্পনা। সেদিন মাস্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বে মাত্র ৬৫ জনের একটি বাহিনী ইংরেজদের গোলামী থেকে ভারতকে স্বাধীন করার স্বপ্ন দেখছিলেন। অস্ত্রাগারে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পর শুরু হয় আরেক লড়াই। যে অস্থায়ী সামরিক সরকার তৈরি করেছিলেন মাস্টারদা, তাকে টিকিয়ে রাখতে বিপ্লবীর দল দুর্গম জঙ্গল পেরিয়ে পায়ে হেঁটে রওনা হয় চট্টগ্রাম শহরের উদ্দেশ্যে।

আরো পড়ুনঃ ১০০ বছর আগে শুরু হয়েছিল স্বদেশী ‘মার্গো’ সাবানের জয়যাত্রা , নেপথ্যে ছিলেন একজন বাঙালি

পথে জালালাবাদ পাহাড়ে শুরু হল যুদ্ধ। মাস্টারদার সেদিনের সেই ৬৫ জনের দলের মধ্যেই ছিলেন ২১ বছর বয়সের সুরেশ দে। জালালাবাদের যুদ্ধে পুলিশের গুলিতে মারাত্মক আহতও হয়েছিলেন তিনি। আরেক সহযোদ্ধা তাঁকে পাহাড় থেকে নামিয়ে এনে গ্রামে রেখে সুস্থ করে তোলেন বটে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ধরা পড়েন সুরেশ। বাকি বিপ্লবীদের সান পেতে মারাত্তমক অত্যাচার চালায় পুলিশ বাহিনী, কিন্তু সুরেশ নিশ্চুপ। ফলে বাড়তে থাকে অত্যাচারের মাত্রা। তবে শেষ পর্যন্ত মুক্তি পেলেও গৃহবন্দি হয়ে থাকতে হয় সুরেশ দে কে। এমনকি কিরণ্ময়ী দেবীর সঙ্গে তাঁর বিবাহের দিনটিতেও বাড়ি ঘিরে রেখেছিল ব্রিটিশ পুলিশ।

দেশভাগের পর সুরেশ দে চলে আসেন এপার বাংলায়। আশ্রয় নেন জামশেদপুরে শহরে। কিন্তু স্বাধীন ভারতেও গোলামির চাকরি তাঁর পোষাবে না বলেই তিনি ঠিক করেন ব্যবসা করার। সময়টা এমনই যে ভারতীয়দের মধ্যে তখনও জুতো পড়ার তেমন রেওয়াজ নেই। আর্থিক সামর্থ্যও নেই সাধারণ মানুষের দামী জুতো ব্যবহার করার।

বাংলার মুখঃ- ১০০ বছর আগে শুরু হয়েছিল স্বদেশী ‘মার্গো’ সাবানের জয়যাত্রা যার নেপথ্যে ছিলেন একজন বাঙালি খগেন্দ্র চন্দ্র দাস।

সুরেশ দে ঠিক করলেন তিনি প্রত্যেকের সামর্থ্যের মধ্যে জুতো তৈরি করবেন। আর এই পরিকল্পনা থেকেই ১৯৫২ সালে জামশেদপুরে শুরু হল শ্রীলেদার্সের পথচলা। প্রথমে ছিল একটি জুতোর দোকান। তবে স্বল্প দামে চামড়ার জুতো জনপ্রিয় হতে বেশি সময় লাগেনি। ধীরে ধীরে ব্যবসাও বাড়তে থাকে। একটি দোকান থেকে ভারতের নানা প্রান্তে তৈরি হল আউটলেট। তবে এসবই মূলত সুরেশ দে-র ছেলেদের হাত ধরে।

১৯৯০ সালের ২১ মে প্রয়াত হলেন সুরেশ দে। তারপর ব্যবসার দায়িত্ব নিলেন তিন ছেলে শেখর, সত্যব্রত এবং আশিস। ভারতের বাইরে জার্মানি, গ্রিস এবং কুয়েতেও ব্যবসা শুরু করেছে শ্রীলেদার্স। শুধু ভারতবর্ষেই কোম্পানির শোরুম আছে অন্তত ৩০টি। সব মিলিয়ে বছরে টার্নওভার প্রায় ১০০ কোটির উপরে।

আরো পড়ুনঃ বঙ্গসন্তান এয়ার মার্শাল ইন্দ্রলাল রায় ছিলেন প্রথম যুদ্ধবিমান চালক

কোম্পানির ট্যাগলাইনে বলা হয়েছে ‘ওয়ার্ল্ড ক্লাস, রাইট প্রাইস’। তবে সেই বিশ্বমানের নিচেই লুকিয়ে আছে খাঁটি স্বদেশি উদ্যোগের ইতিহাস। স্বাধীনতা সংগ্রামের অনেক রক্তও মিশে আছে তাতে। আর আছে অসংখ্য মানুষের আবেগ আর নস্টালজিয়া। বানিজ্যিকভাবে শ্রীলেদার্সকে টেক্কা দিয়ে এগিয়ে গেলেও, এমন একটা ঐতিহ্যের জন্ম সব কোম্পানি দিতে পারবে না।

ঐক্য বাংলা।

- বিজ্ঞাপন -

1 মন্তব্য