30 C
Kolkata
Wednesday, January 6, 2021
More
    হোম অল্ট বাংলা সম্পাদকের কলম ১৮,৩৪,১৮৫ টাকার মাছের বকেয়া না মিটিয়ে উল্টে পাওনাদারদের নামেই কিডন্যাপিং এর অভিযোগ।...

    ১৮,৩৪,১৮৫ টাকার মাছের বকেয়া না মিটিয়ে উল্টে পাওনাদারদের নামেই কিডন্যাপিং এর অভিযোগ। কোটী টাকা তছরুপীতে অভিযুক্ত কেয়া ও #শেষ_অনির্বাণ

    কোটী টাকার প্রতারণার দায় থেকে নিজেদের বাঁচাতে পাওনাদারদের বিরুদ্ধেই মিথ্যা অপহরণের মামলা সাজিয়ে বাজিমাত করতে চেয়েছিলেন এই প্রতারক পরিবার ও তাঁদের মহিলা সঙ্গিনী। অনির্বাণ সেনগুপ্ত ও কেয়া ভৌমিক সেনগুপ্ত এবং তাঁদের দলের বিরুদ্ধে যাদবপুর, শ্রীরামপুর থানা মিলিয়ে আরো চারটি প্রতারণার মামলা রয়েছে।

    - বিজ্ঞাপন -
    - বিজ্ঞাপন -
    - বিজ্ঞাপন -
    - বিজ্ঞাপন -

    পুর্ব মেদিনীপুরের ময়না অঞ্চল বিখ্যাত পোনা, কাতলা, রুই, মনোপ্রিয়া ইত্যাদি তাজা মাছের যোগানের জন্য। প্রতিদিন প্রায় ১৫০০ ট্রাক ভর্তি জ্যান্ত মাছের যোগান যায় মালদা, বর্ধমান, কোলকাতা, হাওড়া, হুগলী, উত্তর ও দক্ষিণ পরগনা, পুর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া সহ প্রচুর জেলায়। ময়না অঞ্চলের বেশীরভাগ মানুষই তাই ধান চাষের পাশাপাশি মাছ চাষকেও অন্যতম প্রধান জীবিকা রূপে বেছে নিয়েছেন।

    আরো পড়ুনঃ স্বপরিবারে প্রতারণার ব্যাবসা – কোটী টাকা তছরুপী – মিথ্যা অপহরণের মামলা ফাঁস করল কলকাতা পুলিশ।

    মূলত মাছ ব্যাবসার উপর ময়না অঞ্চলের শ্রীরামপুরের “মা নাচিন্দা ফিস এজেন্সি”র অধীনে ২৫০-৩০০ বিঘা জলার উপর নির্ভর করে রুটিরুজি চলে প্রায় ১৫০ ভাগচাষীর। যা আয় হত, তাতে করে দুবেলা দুমুঠো খাবারের যোগান হয়েই যাচ্ছিল। বাধ সাধল অণির্বাণ সেনগুপ্ত ও কেয়া ভৌমিক (সেনগুপ্ত)র “ফিস এন্ড ফিস” নামক ভুয়ো কোম্পানীর সাথে চন্দননগরের শ্রী হরি ফিস কোম্পানীর আড়তদারের মাধ্যমে এঁদের মাছের ব্যবসার সুচনা।

    আরো পড়ুনঃ ভুয়ো ইনকাম ট্যাক্স অফিসারের নারী সঙ্গিনীর একাউন্ট ফ্রিজড ইনকাম ট্যাক্সের চিঠির জন্য – স্বপরিবারে প্রতারণার ব্যাবসা – কোটী টাকা তছরুপীর অভিযোগ #শেষ_অনির্বাণ

    ১২ থেকে ১৯ আগস্ট ২০২০ তে মাত্র ৭ দিনে মাছের দাম ও গাড়ীভাড়া বাবত মোট প্রদেয় রাশি ২৪,৮৪,১৮৫/- টাকার মধ্যে অণির্বাণ বাবুরা জমা করেন মাত্র ৬,৫০,০০০/-। আর বকেয়া রাশির সিংহভাগ অর্থাৎ ১৮,৩৪,১৮৫/- টাকাই থেকে যায় বাকির খাতায়। পাহাড়প্রমাণ টাকা বকেয়া থেকে যাওয়ায় একসাথে পাহাড় ভেঙ্গে পড়ে আড়তদার প্রভাস বাবুর মাথায়। আর এই বিপুল পরিমান অর্থ বাকি পড়ে যাওয়ায় অর্থনৈতিক ব্যবস্থা হুড়ুমুড়িয়ে ভেঙ্গে পড়ে “মা নাচিন্দা ফিস এজেন্সি”র অভি মন্ডলদের সাথে সাথে শ দেড়েক পরিবারের।

    আরো পড়ুনঃ বিধবা মহিলার সাথে প্রতারণা ৪০ লাখেরও বেশী, মাণষিক যন্ত্রণা দিয়ে খুন করার চেষ্টা মামা – ভাগ্নীর ভুয়ো পরিচয়ে – স্বপরিবারে প্রতারণার ব্যাবসা – কোটী…

    অথচ ফোন না ধরা, গা ঢাকা দিয়ে থাকা জোচ্চোর দম্পতি তখন মত্ত অন্য খেলায়। বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পীদের নিজেদের ফাঁদে আটক করে শুরু করেছেন নতুন ব্যবসা – “আড্ডা পাড় – De’Street”। আর বিশিষ্ট শিল্পীদের একত্রিত করে লোকগীতির সাথে চা পানের জমাটি আড্ডার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করে আরো কিছু ইনভেস্টর শিকার এর ছক। ইতিমধ্যেই হোটেল ব্যবসার নামে প্রায় কোটী টাকার প্রতারণার অভিযোগের তীর এই দম্পতির দিকে।

    হন্যে হয়ে অণির্বাণ আর কেয়া দের খুঁজতে থাকা অভি – প্রভাস বাবুরা স্মরণাপন্ন হন চন্দননগর নিবাসী বিমান চ্যাটার্জীর। যিনি আলাপ করিয়ে দিয়েছিলেন এই জোচ্চোর দম্পতির সাথে এবং তাঁদের মোহজালে ফেঁসে গিয়ে দিবাস্বপ্ন দেখে ফেলে অগাধ বিশ্বাস করে ফেলেন অভি – প্রভাসেরা। বিমান বাবুর উপর চাপ দিলে তিনি খোঁজখবর নিতে থাকেন একদা তাঁর বিশিষ্ট বন্ধুরুপী অণির্বাণ সেনগুপ্ত দের। লোলেগাঁও, দীঘা, পুরীতে প্রসিদ্ধ হোটেলিয়র বলেই যাকে চিনতেন বিমান চ্যাটার্জী সেই অণির্বাণ সেনগুপ্ত কত বড় প্রতারক তা তিনিও হয়ত কল্পনা করে উঠতে পারেন নি।

    আরো পড়ুনঃ মমতা ব্যানার্জী র পর কে হবেন বাংলার মুখ? কে কোন স্থানে অবস্থান করছেন?

    এঁদের সম্বন্ধে খোঁজ নিতে গিয়ে একে অন্যের সাথে পরিচিত হয়ে যান বেশ কয়েকজন পাওনাদার, যারা ইতিমধ্যেই কেয়া অণির্বাণের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে নিজেদের কয়েক লক্ষ টাকা খুইয়ে বসে আছেন। একে অন্যের মাঝে খোঁজ খবর করে সকলে একত্রিত হন ১৭ই ডিসেম্বর সন্ধ্যায় “আড্ডা পাড় – De’Street” নামক যাদবপুর ইউনিভার্সিটির ৪ নং গেটের ঠিকানায়। সকলকে একযোগে দেখে দিশেহারা অণির্বাণ সেনগুপ্ত ও তাঁর ছেলে সাগ্নিক আর ছেলের বন্ধু রিসভ অতর্কিতে আক্রমণ করে বসেন পাওনাদারদের। এঁদের মধ্যে দুজন কোনোক্রমে পালিয়ে রিপোর্ট করেন নিকটবর্তী যাদবপুর থানায় আর বাকিদের চাপে হিসেব কিতেব সেরে নেবার জন্য আগত পাওনাদারদের সাথে ময়নার উদ্দেশ্যে রওনা দেন প্রতারক ও তাঁর ছেলে।

    সোশ্যাল মিডিয়ার চাকচিক্য বজায় রাখার জন্য পরদিন অর্থাৎ ১৯ই ডিসেম্বর নিজের দেওয়ালে একটি পোস্ট করে সকলের উদ্দেশ্যে জানান দেন যে তিনি ব্যাক্তিগত কাজে কয়েকদিনের জন্য কোলকাতার বাইরে বলে সকলের সাথে যোগাযোগ করতে পারছেন না। অথচ নেতাজী নগর পুলিশ স্টেশনে করা একটি অভিযোগের ভিত্তিতে অনির্বাণ বাবুর বৈধ স্ত্রী (লোকচক্ষুতে যারা ২০১২ থেকে আলাদা) সুস্মিতা সেনগুপ্ত দাবী করেন যে তাঁর স্বামী এবং পুত্রকে অপহরণ করা হয়েছে।

    আরো পড়ুনঃ “লিঙ্গ সাম্যে বিশ্বাসী বলেই আমি নারীবাদ বিরোধী”- ঐক্য বাংলার নেত্রী সুলগ্না দাশগুপ্ত

    যাদবপুর ইউনিভার্সিটির ৪ নং গেটের সামনে থেকে ভর সন্ধ্যাবেলায় মাত্র দুজন মানুষ জোর করে ৩ জন সমর্থ মানুষকে গাড়িতে তুলে অপহরণ করে নিয়ে গেল, এমন অভিযোগ পেয়ে তৎপর হয়ে ওঠেন ডিসি (এসএসডি) রশিদ মুনির খান। স্পেশ্যাল অফিসারের টিম মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ধরে পোঁছয় তমলুক অঞ্চলে। সোর্সের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২৩ ডিসেম্বর তিন জনকে অক্ষত অবস্থায় ময়না থেকে উদ্ধার করেন তদন্তকারীরা। এদিকে, অফিসাররদের জেরায় অপহৃতদের বক্তব্যে একগুচ্ছ অসঙ্গতি পেয়েছে পুলিস। ভরসন্ধ্যায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের চার নম্বর গেটের সামনের রাস্তা যথেষ্ট জনবহুল থাকে। সেখান থেকে তিনজনকে গাড়িতে তুলে অপরহণ করা হলে, কেউ না কেউ সেটা দেখতে পেতেন। কিন্তু কোনও প্রত্যক্ষদর্শীকে পাওয়া যায়নি। অপহরণ বাস্তবে হলে অপহৃত প্রত্যেকের মোবাইল ফোন বরাবর চালুও থাকত না বলেই পুলিশের ধারণা।

    আরো পড়ুনঃ বাংলা ভাষাকে দিতে হবে অগ্রাধীকার – কোলকাতা মেট্রো কতৃপক্ষকে স্মারকলিপি দিল ঐক্য বাংলা

    কোটী টাকার প্রতারণার দায় থেকে নিজেদের বাঁচাতে পাওনাদারদের বিরুদ্ধেই মিথ্যা অপহরণের মামলা সাজিয়ে বাজিমাত করতে চেয়েছিলেন এই প্রতারক পরিবার ও তাঁদের মহিলা সঙ্গিনী। অনির্বাণ সেনগুপ্ত ও কেয়া ভৌমিক সেনগুপ্ত এবং তাঁদের দলের বিরুদ্ধে যাদবপুর, শ্রীরামপুর থানা মিলিয়ে আরো চারটি প্রতারণার মামলা রয়েছে। সবমিলিয়ে প্রতারণার অঙ্ক কয়েক কোটি টাকা। যার মধ্যে যাদবপুরে ৪১ লক্ষ ও ১০ লক্ষ টাকার দু’টি প্রতারণার মামলা রয়েছে। সমস্ত তছরুপির অর্থ কোথায় গচ্ছিত রাখা আছে অথবা তাঁদের প্রতারণার শিকার আরো কে বা কারা তা এখনো স্বীকার করেন নি এই প্রতারকদল।।

    - বিজ্ঞাপন -

    কোভিড ১৯ আপডেট

    India
    9,996,493
    Total recovered
    Updated on 05/01/2021 9:53 PM
    - বিজ্ঞাপন-

    হাতে গরম

    কমেন্টস