বিধবা মহিলার সাথে প্রতারণা ৪০ লাখেরও বেশী, মাণষিক যন্ত্রণা দিয়ে খুন করার চেষ্টা মামা – ভাগ্নীর ভুয়ো পরিচয়ে – স্বপরিবারে প্রতারণার ব্যাবসা – কোটী টাকা তছরুপীর অভিযোগ #শেষ_অনির্বাণ
- বিজ্ঞাপন -

২৩ শে জুলাই ২০১৮ তে মেদিনীপুরের জনৈকা বিধবা মহিলার কাতর আবেদন সোশ্যাল মিডিয়ায় “অণির্বাণ সেনগুপ্ত একজন প্রতারক …… আমার কাছ থেকে ৪০ লক্ষেরও বেশী টাকা ধার নিয়েছে প্রতারণা করে …… মৃত্যু থেকে বাঁচার তাগিদে …… আমার হাতে পায়ে ধরে, কান্না কাটি করে …… আজ আমাকে ব্লক করেছে টাকা ফেরত চেয়েছিলাম বলে …… আমি সকলের কাছে সাহায্য চাইছি …… যাতে এই লোকটা আমার সব টাকা ফেরত দিয়ে দেয়……

আরো পড়ুনঃ স্বপরিবারে প্রতারণার ব্যাবসা – কোটী টাকা তছরুপী – মিথ্যা অপহরণের মামলা ফাঁস করল কলকাতা পুলিশ।

- বিজ্ঞাপন -

সেদিন সেই ভদ্রমহিলার এই পোস্ট দেখেই চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায় মামা – ভাগ্নীর। শুরু হয় নতুন নাটক। মুন্না ওরফে কেয়া ভৌমিক বিধবা মহিলার সাথে যোগাযোগ করে অণির্বাণের বিরুদ্ধে বলতে থাকেন।

কেয়ার বক্তব্য অনুসারে তার একাউন্টে প্রায় ৩৫,০০,০০০/- টাকা ধার নিলেও সব টাকা অণির্বানকে দিয়ে দিয়েছেন তিনি। নিজের মেয়ে ঐন্দ্রিলা ভৌমিকের পড়াশোনা বাবদ যে টাকা কেয়া নিজে নিয়েছেন, শুধুমাত্র সেটুকুই ফেরত দেবার দায়িত্ব তাঁর। বাকি বিপুল পরিমান অর্থরাশির দায় নিতে কেয়া অপারগ। ব্লক করে দেবার কারণে সাময়িক ভাবে অণির্বাণ এই পোস্ট দেখতে না পেলেও ট্যাগ থাকার কারণেই কমন বন্ধু এবং কেয়া মারফৎ জেনে যায় অতি স্বল্প সময়েই। আর তাই সেই বিধবা মহিলাকে টেলিফোনে, ম্যাসেঞ্জারে চলতে থাকে মানানোর পালা।

আরো পড়ুনঃ ভুয়ো ইনকাম ট্যাক্স অফিসারের নারী সঙ্গিনীর একাউন্ট ফ্রিজড ইনকাম ট্যাক্সের চিঠির জন্য – স্বপরিবারে প্রতারণার ব্যাবসা – কোটী টাকা তছরুপীর অভিযোগ #শেষ_অনির্বাণ

বেচারী মহিলা সেদিন বুঝতেও পারেন নি যে এঁদের মুখোস খুলে যাবার ভয়েই তড়িঘড়ি তাকে মানিয়ে স্বত্তর পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সরিয়ে নেবার জন্য সেই কুম্ভীরাশ্রুর উদ্দেশ্য। শুধুমাত্র পোস্ট সরানোই নয়, সেই মহিলাকে দিয়ে আরেকটি পোস্ট করিয়ে জানান দেওয়া যে “আমার ও অণির্বাণের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির জন্য যে পোস্টটি আমি করেছিলাম, এখন তাঁর কোনো গুরুত্ত্ব নেই …… আমাদের মধ্যে এখন বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। বন্ধুদের বলি এই পোস্টটিতে কেউ কোনো মন্তব্য না করলে খুশি হবো।

আরো পরুনঃ  ডায়মণ্ডহারবার, কাকদ্বীপ, ক্যানিং সাবডিভিশান ধ্বংস হয়ে গেল। এমন ঝড় জীবণে দেখিনি।

আরো পড়ুনঃ মমতা ব্যানার্জী র পর কে হবেন বাংলার মুখ? কে কোন স্থানে অবস্থান করছেন?

কিছুদিনের মধ্যেই নিজেদের জাত চিনিয়ে দেন অনির্বাণ ও কেয়া। ফোনে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালোজ করে মানসিক ভাবে সেই মহিলাকে দুর্বল করতে থাকেন অণির্বাণ। আর অণির্বাণের সাথে সেই মহিলার অবৈধ প্রেমের সম্পর্ক আছে দাবী করে কেয়া ম্যাসেজ করতে থাকে যে উক্ত ঘটনা সে জনসমক্ষে এনে দিলে সেই মহিলা কি করবেন সেই ভয়দেখিয়ে।

আরো পড়ুনঃ বাঙালি জাতীয়তাবাদ শুধু আবেগ নয়, বাঁচার লড়াই – সুলগ্না দাশগুপ্ত

অণির্বাণের শারীরিক দুর্বলতার কথা বলে মেদিনীপুর থেকে কোলকাতায় ডেকে এনে হাসপাতালের খরচের নামে বেশ কিছু টাকা হাতানো, রিতীমতো ভিখারীর বেশে থাকা অণির্বাণ সেনগুপ্ত ও কেয়া ভৌমিক কে দামী জামাকাপড়, মোবাইল কিনে দেওয়া এই মহিলাকে মামা – ভাগ্নীর প্রতিদান ছিল মানসিক যন্ত্রনা দিয়ে খুন করার চেষ্টা। প্রতি রাতে বেহেড মদ্যপ অবস্থায় ম্যাসেঞ্জারে অথবা ফোনে অকথ্য ভাষায় গালাগাল দেওয়া ছিল এক সময়ে অনির্বাণ সেনগুপ্তর অন্যতম কাজ। আর অবৈধ সম্পর্কের মিথ্যা প্রচারের ভয় দেখাতেন মুন্না ওরফে কেয়া দেবী।

আরো পড়ুনঃ বাংলা ভাষাকে দিতে হবে অগ্রাধীকার – কোলকাতা মেট্রো কতৃপক্ষকে স্মারকলিপি দিল ঐক্য বাংলা

প্রতিদিন তিল তিল করে মৃত্যুমুখের দিকে এগিয়ে যাওয়া এই মহিলা অপেক্ষায় ছিলেন এঁদের বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো সঠিক সময় এবং মানুষের। সোশ্যাল মিডিয়াতেই অণির্বাণের বিরুদ্ধে ২-১ জনকে পেয়ে যান তিনি। সাহস করে চলে আসেন কোলকাতায়। আগস্ট ২০১৯ এ যাদবপুর থানায় ডায়েরী করলেও যে উকিলবাবুকে ভরসা করেছিলেন এই মহিলা, তিনি যে আদপে অণির্বাণেরই প্রেরিত তা বুঝতেই পারেন নি।

আরো পড়ুনঃ “লিঙ্গ সাম্যে বিশ্বাসী বলেই আমি নারীবাদ বিরোধী”- ঐক্য বাংলার নেত্রী সুলগ্না দাশগুপ্ত

আবার মাস ছয়েক বাদে দারস্থ হন লালবাজারে জয়েন্ট সিপি (ক্রাইম) এর এবং সমস্ত প্রমাণসহ অভিযোগের ভিত্তিতে অণির্বাণ এবং কেয়ার বিরুদ্ধে এন্টি ফ্রড বিভাগে দাখিল করেন প্রতারণার মামলা। কিন্তু ভাগ্য সহায় ছিল না সেবারও। বিশ্বব্যাপী প্যানডেমিক এর কারণেই অনান্য সমস্ত মামলার সাথে শিথীল হয়ে যায় উক্ত অভিযোগ। যদিও এন্টি ফ্রড বিভাগের পুলিশকর্তারা কড়া নজরেই রেখেছিলেন উক্ত দম্পতিকে। এই নভেম্বরেই যাদবপুর থানায় পুনরায় অভিযোগ করেন সেই মহিলা।

আরো পরুনঃ  আগস্ট ২০২০ তে ৩০ লাখ না এক কোটী? ভারতে সংক্রমণ কত হবে? কোভিড ১৯ এর ভারত যাত্রা!

আরো পড়ুনঃ পথ দেখালো বাংলা – প্রথম বৃহন্নলা বিচারপতি “জয়িতা মন্ডল”

কথায় আছে না? স্বভাব যাবে না মলে …… তাই জাল বোনা বন্ধ হয় নি এই প্রতারকদের। নতুন করে মাছ ব্যবসার নামে যাদবপুরের এক সজ্জনকে ফাঁদে ফেলেন এঁরা। কেয়া ভৌমিককে স্ত্রী সাজিয়ে ১০,০০,০০০/- টাকার নতুন প্রতারণা করেন জুলাই মাসে। মাছ সাপ্লায়ারদের ১৮,০০,০০০/- টাকারও বেশী বকেয়া, ভাড়া করা গাড়ীর ভাড়া পরিশোধ না করা এবং সেই গাড়ী লুকিয়ে ফেলা, গাড়ীর মালিকের থেকে ৩,০০,০০০/- এঁর ও বেশী টাকা ধার নিয়ে ফেরত না দেওয়া ইত্যাদি সমস্ত ব্যাপার একত্রিত হতে বাপ – বেটা পালিয়ে যান এবং নিজের আসল স্ত্রী সুস্মিতা সেনগুপ্তকে দিয়ে নেতাজী নগর থানায় সাজানো অভিযোগ করান নিজেদের অপহৃত হবার। কিন্তু শেষরক্ষা হলো না।

- বিজ্ঞাপন -