করোনা যুদ্ধে জয় করার পরেও ভারতের ‘উড়ন্ত শিখ’ চলে গেলেন স্ত্রীর মৃত্যুর ৫ দিনের মধ্যেই

শৈশব অতিবাহিত হয়েছিল খুব কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে। দেশভাগের সময় মিলখা সিংহ হারিয়েছিলেন তাঁর বাবা-মা ও ভাই-বোনদের। বাড়ি থেকে স্কুলের দুরত্ব ১০ কিলোমিটার - তিনি দৌড়েই যাতায়াত করতেন।

0
319
করোনা যুদ্ধে জয় করার পরেও ভারতের ‘উড়ন্ত শিখ’ চলে গেলেন স্ত্রীর মৃত্যুর ৫ দিনের মধ্যেই
- বিজ্ঞাপন -

ডিজিটাল ডেস্কঃ করোনা (COVID 19) যুদ্ধ জয় করলেও জীবনযুদ্ধে হার মানলেন পদ্মশ্রী (Padma Shri) অ্যাথলিট মিলখা সিং (Milkha Singh)। মাত্র ৫ দিন আগে তাঁকে ছেড়ে যান স্ত্রী নির্মল কৌর (Nirmal Saini) যিনি ভারতীয় মহিলা বাস্কেটবল দলের অধিনায়ক ছিলেন।

প্রায় তিন সপ্তাহ করোনার সঙ্গে লড়াই করার পর কোভিড থেকে সুস্থ হওয়া মিলখা সিংকে নন-কোভিড মেডিক্যাল ইনটেসিভ কেয়ার ইউনিটে রাখা হয়েছিল। জ্বর কমলেও বৃহস্পতিবার রাত থেকেই মিলখা সিং-এর অক্সিজেন লেভেল কমতে শুরু করে। শুক্রবার সন্ধ্যার শারীরিত অবস্থা সংকটজনক হয়ে দাঁড়ায়। শেষমেশ আর মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই চালাতে পারেননি মিলখা। ভারতের ক্রীড়া ইতিহাসে সবচেয়ে সফল অ্যাথলিট শুক্রবার রাত ১১টা ৩০ মিনিটে ৯১ বছর বয়সে চন্ডীগড়ের হাসপাতালে শেষ করলেন জীবনযুদ্ধের দৌড়।

- বিজ্ঞাপন -

চারবারের চেষ্টার পর ১৯৫১-তে তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন পাঞ্জাবের সবচেয়ে দ্রুতগতির দৌড়বীর। ১৯৬০-এ রোম অলিম্পিকে পদক হাতছাড়া হওয়ায় বেশ হতাশ হয়েছিলেন তিনি। ওই বছরই তিনি পাকিস্তানে আয়োজিত আন্তর্জাতিক অ্যাথলিট প্রতিযোগিতায় তৎকালীন পাক প্রেসিডেন্ট ফিল্ড মার্শাল মিলখার দক্ষতায় মুগ্ধ হয়ে তাঁকে “উড়ন্ত শিখ” খেতাব দেন।

আরো পরুনঃ  বিডেন বলেছেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বেইজিং শীতকালীন অলিম্পিকের কূটনৈতিক বয়কটের কথা বিবেচনা করছে

১৯২৯-এর ২০ নভেম্বর বর্তমান পাকিস্তানের গোবিন্দপুরে এক শিখ পরিবারে হয়েছিল। শৈশব অতিবাহিত হয়েছিল খুব কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে। দেশভাগের সময় মিলখা সিংহ হারিয়েছিলেন তাঁর বাবা-মা ও ভাই-বোনদের। বাড়ি থেকে স্কুলের দুরত্ব ১০ কিলোমিটার – তিনি দৌড়েই যাতায়াত করতেন।

১৯৫৮-তে কটকে আয়োজিত জাতীয় ন্যাশনাল গেমসে ২০০ ও ৪০০ মিটারে রেকর্ড গড়েন তিনি। ওই বছরই টোকিওতে আয়োজিত এশিয়ান গেমসে ২০০ ও ৪০০ মিটারে সোনার পদক জেতেন মিলখা সিংহ। ১৯৫৮-তে ইংল্যান্ডের কার্ডিফে আয়োজিত কমনওয়েলথ গেমসে ৪০০ মিটারে সোনা জেতেন। কমনওয়েলথ গেমসে দেশকে প্রথম সোনার পদক এনে দেওয়ার কৃতিত্ব মিলখা সিংহর।

ভারত সরকারের অর্জুণ পুরস্কার নিতে অস্বীকার করেন এই মহান দৌড়বীর। যুবসম্প্রদায়ের খেলোয়ারদের জন্য এই সম্মান। তিনি এর যোগ্য অধীকারী নন – বলেছিলেন মিলখা। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শ্রী জহরলাল নেহেরুর বিশেষ অনুরোধে অনিচ্ছা স্বত্তেও ১৯৬০ এ পাকিস্থান যান মিলখা।

তাঁর জীবন কাহিনী থেকে তৈরি চলচিত্র “ভাগ মিলখা ভাগ” যথেষ্ট জনপ্রিয় হয়েছিল।

- বিজ্ঞাপন -