যশ বিধ্বস্ত মৌসুনি দ্বীপের বাসিন্দাদের জন্য মেডিক্যাল ক্যাম্প, ওষুধ, রেশন

বিবাহবার্ষিকী পালনের এর থেকে ভালো উপায় আর কিই বা হতে পারে বলুন? নিজেদের জীবনের একটি বিশেষ অনুষ্ঠান পালন করার ইচ্ছা পূরণ করলেন নবনীতা সেনগুপ্ত ও মানস কুমার সেনগুপ্ত ২০০ পরিবারের হাতে কিছু দিনের রেশন তুলে দিয়ে।

0
275
- বিজ্ঞাপন -

যশ তান্ডবের কারণে হওয়া জলচ্ছাসে জলমগ্ন হয় প্রায় সমগ মৌসুনি দ্বীপ। গৃহহীণ হয়ে পড়া মৌসুনি দ্বীপের বালিয়ারা গ্রামের বাসীন্দাদের জন্য বাঙালি বৈদ্য সমাজ আয়োজন করেছিল মেডিক্যাল ক্যাম্পের আর যদি কিছু রেশনের

- বিজ্ঞাপন -

দুষ্টু ভট্টাচার্য্য যোগাযোগ করিয়ে দেন মৌসুনি দ্বীপে অবস্থিত সবুজ সংঘ ক্লাবের সভাপতি সেখ সফিউল্লাহ-র সাথে। তাঁর সংস্থা হরিনাভি দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণ অয়েলফেয়ার সোসাইটি (Harinavi Dwarkanath Vidyabhusan Welfare Society) ইতিমধ্যেই কাজ করছিলেন ঐ অঞ্চলের বিভিন্ন গ্রামে।

যতটা বেশি সাহায্য করা যায় ঐ বিপর্যস্ত মানুষগুলোর ততটাই মঙ্গল। সেটা ভেবেই সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার পর থেকেই আসতে থাকে সাহায্যরাশি। ৩০০-৫০০০ টাকার সাহায্যরাশী একত্রিত করেও হয়ত ২০০ পরিবারকে রেশন দেওয়া সম্ভব হতো না, যদি না এগিয়ে আসতেন মানস দা ও নবনীতা দি – জানান বাঙালি বৈদ্য সমাজের সম্পাদক।

বিবাহবার্ষিকী পালনের এর থেকে ভালো উপায় আর কিই বা হতে পারে বলুন? নিজেদের জীবনের একটি বিশেষ অনুষ্ঠান পালন করার ইচ্ছা পূরণ করলেন নবনীতা সেনগুপ্ত ও মানস কুমার সেনগুপ্ত ২০০ পরিবারের হাতে কিছু দিনের রেশন তুলে দিয়ে।

আরো পরুনঃ  প্রশান্ত নীল 'কেজিএফ: চ্যাপ্টার 2' তৈরি করতে গিয়ে 'আবেগজনিত উন্মাদনা' সম্পর্কে কথা বলেছেন

চিত্রাভিনেতা রাজদীপ সরকার ও তাঁর বন্ধুরা মিলে লকডাউন ঘোষণা ইস্তক হাওড়া স্টেশন সংলগ্ন অঞ্চলের দুঃস্থ মানুষদের হাতে দুবেলার খাবার তুলে দিচ্ছেন প্রথম দিন থেকেই। এখেত্রেও পিছিয়ে থাকলেন না রাজদীপরা। বিস্কুট – পাউরুটি ইত্যাদি দিয়েই ক্ষান্ত থাকলেন না, সাথে থাকলেন প্রথম থেকে শেষ অবধি।

বালিয়ারা গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যর হাত দিয়ে রেশন সামগ্রী তুলে দেওয়ার কাজ শুরু হলো দুপুরের কিছু পরেই। পাশাপাশি তিন দিকে নদী আর চতুর্থ দিকে সমুদ্র বেষ্টিত এই দ্বীপের মানুষগুলির শারীরিক সমস্যা অনুযায়ী তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হতে লাগল ও-আর-এস পাউডার, জ্বর, পেট খারাপ, ভিটামিন সি সহ অন্যান্য ওষুধপত্র।

এন আর এস হাসপাতালের চিকিৎসক দলের একজন সারা রাত হাসপাতালে ডিউটি করার পর যোগ দিয়েছিলেন আমাদের সাথে। কয়েকশ মানুষের লাইন দেখে ডাঃ সৌরভ দের প্রতিক্রিয়া ছিল রাত ১০ টায় পুনরায় হাসপাতাল ডিউটি তে যোগ দিতে না হলে মৌসুনীতেই রাত্রিবাস করে পরদিনও সারা গ্রামের মানুষকে দেখতে তিনি পীছপা হতেন না।

জল অনেকটা নেমে গেলেও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে এঁদের লেগে যাবে বেশ কয়েক মাস। সবুজ সংঘ ক্লাবের সভাপতি সেখ সফিউল্লাহ বরাবরই ফ্রী কোচিং দেন গ্রামের হতদরিদ্র দুঃস্থ বাচ্চাদের। এবার তিনি তাঁর টিম নিয়ে লেগে পড়েছেন আপাতত রোজ চেষ্টা চালাচ্ছেন যাতে করে ওষুধপত্র, রেশন ইত্যাদি প্রদান করানোর মাধ্যমে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করে তোলা যায়।

আরো পরুনঃ  আন্তর্জাতিক নারী দিবসে আমরি হাসপাতাল ও বাঙালি বৈদ্য সমাজ সম্মানিত করল সমাজের বিভিন্ন কৃতি মহিলাদের

আর তাই কোনোদিকে না দেখে টার্গেট একটাই – মানুষের সেবা। মৌসুনী র থেকেও ভয়ংকর পরিস্থিতিতে আছে আরও অনেক জলমগ্ন দ্বীপ।

ভিডিও লিঙ্কঃ

- বিজ্ঞাপন -