পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে কেয়া অণির্বাণ। স্বপরিবারে চালাত প্রতারণার ব্যবসা আর মোচ্ছব।

মাছব্যবসায়ীরা কোলকাতায় এসে খুঁজে পান না কেয়া - অণির্বাণ - সাগ্নিক কাউকেই। পুরোনো ঠিকানা ইতিমধ্যেই ছেড়ে নতুন (অজানা) ঠিকানায় স্থানান্তরিত সাগ্নিক এবং তার মা সুস্মিতা সেনগুপ্ত আর আদালতে জামিন না মঞ্জুর হওয়ায় পুলিশের হাতে গ্রেফতার হবার ভয়ে পলাতক কেয়া - অণির্বাণ।

0
679
- বিজ্ঞাপন -

একের পর এক প্রতারণার অভিযোগ যাদবপুর থানা এবং লালবাজারে। প্রথমে মামা – ভাগ্নী সেজে হলদিয়ার এক বিধবা মহিলার ৪১ লাখেরও বেশী টাকা প্রতারণা করেও ২২শে ফেব্রুয়ারি ২০২১ মহামান্য আদালতকে বিভ্রান্ত করে (FIR No. 267/2020) জামিন মঞ্জুর করিয়ে নিতে পারলেও জামিন না-মঞ্জুর হয় দ্বিতীয় অভিযোগের।

এবার মুন্না ওরফে কেয়া ভৌমিক কে নকল স্ত্রী সাজিয়ে সুষ্মিতা সেনগুপ্তর আসল স্বামী এবং সাগ্নিক সেনগুপ্তর বৈধ পিতা, কোটী টাকার বেশি প্রতারণা করা অণির্বাণ সেনগুপ্ত দের ফাঁদে পা দিয়ে ফিস এন্ড ফিস নামক ভূয়ো কোম্পানীর মাছ ব্যবসায়ে লগ্নীর নামে ১০ লক্ষ টাকার প্রতারণার শিকার হন যাদবপুর নিবাসী এক ভদ্রলোক। ১৩ই আগস্ট ২০২১ এ জামিন না মঞ্জুর হয়ে যায় আলিপুর আদালতে

- বিজ্ঞাপন -

সেই দিন থেকেই পলাতক অভিযুক্ত দুই প্রতারক। এদিকে মাছ সরবরাহকারীদের বকেয়া ১৮,৩০,১৮৫/- টাকার অভিযোগ জমা পড়েছে লালবাজারের জয়েন্ট কমিশনার (ক্রাইম) এর কাছে। অভিযোগকারীদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে জানা গেছে যে পিতা-পুত্র মেদিনীপুরে গিয়ে তাঁদের কাছে ৩-৪ দিন থাকাকালীন মাছ সাপ্লাই বাবত সমস্ত বকেয়া মিটিয়ে দেবার আশ্বাস দিলেও তারা তা পূরণ করেন নি। বরং পরবর্তীকালে মুন্না ওরফে কেয়া ভৌমিক, অণির্বাণ সেনগুপ্ত এবং সাগ্নিক সেনগুপ্ত এঁদের সাথে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

আরো পরুনঃ  কষ্টের ফসল জেসিবি দিয়ে তছনছ করে দেয় পুলিশ - তারপর প্রশাসনের সামনেই পেস্টিসাইড খেয়ে আত্মহত্যা করেন দলিত দম্পতি - দেখুন ভিডিও

কেয়া অণির্বাণ সাগ্নিক

মাছব্যবসায়ীরা কোলকাতায় এসে কোনো ঠিকানাতেই খুঁজে পান না কেয়া – অণির্বাণ – সাগ্নিক কাউকেই। জানা যায় পুরোনো ঠিকানা ইতিমধ্যেই ছেড়ে নতুন (অজানা) ঠিকানায় স্থানান্তরিত সাগ্নিক এবং তার মা সুস্মিতা সেনগুপ্ত আর আদালতে জামিন না মঞ্জুর হওয়ায় পুলিশের হাতে গ্রেফতার হবার ভয়ে পলাতক কেয়া – অণির্বাণ।

এছাড়াও ইনকাম ট্যাক্সের অফিসার সেজে, দীঘাপুরীলোলেগাঁও ইত্যাদি জায়গায় হোটেল ব্যবসার নামে, খামারবাড়ী, প্লটিং ব্যবসা নাজানি আরো কত রূপে কত ছলচাতুরী করে লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতারণা করে বেরিয়েছে এই পরিবার। একদিকে স্বামী – স্ত্রী – ছেলে আর অপর দিকে এক বিধবা মহিলা এবং তার একমাত্র মেয়ে।

একের পর এক প্রতারণার মামলা সামনে আসলেও আশ্চর্য্যজনক ভাবে মুখে কুলুপ এঁটে নিয়েছেন ৪১ লক্ষেরও বেশী টাকার প্রতারণা হয়েছে যার সাথে, হলদিয়ার সেই বিধবা মহিলা। প্রথমে লালবাজারের এন্টি ফ্রড বিভাগে (২০২০তে) তার করা অভিযোগে হাজিরা দিয়ে সময় চেয়ে নিলেও কোভিড জনিত লকডাউনের জন্য বিলম্ব ঘটে যায় সেই সময়। আর সেই সুযোগের স্বদব্যবহার করতে ছাড়েন নি অভিযুক্তরা। মানবাধিকার সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবী করা এক মহিলার মাধ্যমে প্রতারিত মহিলাকে দিয়ে যাদবপুর থানায় নতুন করে অভিযোগ করানোর কথা সামনে আসে এই প্রতারক দলের কিছু স্তাবকের সোশ্যাল মিডিয়ায় করা উক্তির ভিত্তিতে।

আরো পরুনঃ  যশ বিধ্বস্ত মৌসুনি দ্বীপের বাসিন্দাদের জন্য ৩য় মেডিক্যাল ক্যাম্প, ওষুধ, বালতি বিতরণ

অথচ মামলার শুনানীর সময়ে না তো উপস্থিত ছিলেন উক্ত বিধবা মহিলা নাই বা তাঁর পক্ষের কোনো উকিল। যে বা যারা এত্ত বড় চক্রান্ত করতে পারেন নিজেদের বাঁচাতে, তাঁরা আইনের বেড়াজাল কেটে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন আজ। এরা ধরা পরলে হয়তো পুরো দলের সন্ধান পাবে কোলকাতা পুলিশ

সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছুদিন আগেও যারা সাধারণ মানুষকে নিজেদের প্রতারণার জালে জড়িয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতারণা করে রিতীমতো বিলাসবহুল জীবনযাত্রার পরিচয় দিয়ে বেড়িয়েছেন, বিভিন্ন রাজনৈতীক ব্যাক্তিত্ত্ব, প্রতিষ্ঠিত শিল্পীর সাথে পারিবারিক সম্পর্কের বিভিন্ন মুহুর্তের ছবি প্রকাশ করে সাধারণ মানুষকে বোকা বানিয়েছেন, সেইসব প্রতারকের দল আজ অজানা ঠিকানায়। কিন্তু কতদিন?

- বিজ্ঞাপন -