Sunday, June 13, 2021

পরকীয়ার সাজা কেবল পুরুষ দের জন্যেই কেন হবে? পরকীয়া দিবস আসছে!

একটি সম্পর্কে দুজন জড়িত হলেও তাঁদের মধ্যে পুরুষ মানুষটির সাজা হবে, আর নারীর সাজা হবে না, এটা অনুচিত। সম্পর্কে জড়িয়ে পড়লাম, তার ফল ভোগ করলাম, কিন্তু দোষী হল শুধু পুরুষটি, সেটা তো ঠিক নয়।

অবশ্যই পরুনঃ

পরকীয়া দিবস আসছে – শুধুই ধৈর্যর পরীক্ষা। যুগ কাল ধর্মের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে সমাজ পাল্টেছে প্রাচ্য থেকে পাশ্চাত্যে। এছাড়া বিভিন্ন পুরাণ, বেদ আর মহাকাব্যের পাতায় পাতায় ছেয়ে আছে উদার যৌনতার কাহিনী।যেমন, মহাভারতেই আছে পরকীয়ার বর্ণনা। মণিপুরের বিধবা নাগকন্যা উলুপি অর্জুনকে বলেন, কোনও পরস্ত্রীর সঙ্গে রাত কাটানো অধর্ম নয়।

আরো পড়ুনঃ বাঙালি জাতির প্রাচীনতম সম্রাট – পৌণ্ড্রক বাসুদেব

ফলস্বরূপ এসেছে monogamy, polygamy, polyandry- মাতৃতান্ত্রিক সমাজ, পিতৃতান্ত্রিক সমাজ। লুইস মরগান এর লেখা “Ancient Society” বই থেকে জানা যায়, সুপ্রাচীন কালে সকল আদিম গোষ্ঠী ই ছিল মাতৃতান্ত্রিক। ফ্রেড্ররিখ এংগেলস ও এই তত্ব মেনে নিয়েছিলেন। সাম্প্রতিক কালে বিবর্তন বাদী জীববিজ্ঞানী, জিনতত্ত্ব বিদ, প্যালিও আন্থ্রোপলজিষ্ট গন বিভিন্ন পরীক্ষা করে বলেছেন, মানব গোষ্ঠী সুপ্রাচীন কালে প্রথমে মাতৃতান্ত্রিক ই ছিল। পরবর্তী কালে সমাজ ব্যবস্থা ধীরে ধীরে বিবর্তিত হয়েছে।

আরো পড়ুনঃ মমতা ব্যানার্জী র পর কে হবেন বাংলার মুখ?

বর্তমানে আবার আর্থসামাজিক একটা বড় কারন। ভাবুন – পরিবর্তনের রূপ কি দ্রুতলয়ে।
এবার সামনে এল একটি ডেটিং অ্যাপের রিপোর্ট। প্রকাশিত এক রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, ৮ লাখ ভারতীয় পরকীয়া সম্পর্কে জড়িত (যাদের এই অ্যাপ নেই, তাদের কথা বাদ ই দিলাম)। অ্যাপের রিপোর্ট অনুযায়ী, জানুয়ারিতে যখন প্রথম সপ্তাহে মানুষজন তাঁদের ছুটি শেষ করে আবার কাজের মধ্যে ফেরে ঠিক সেই সময় ডেটিং অ্যাপের অ্যাক্টিভিটি গ্রাফ সবচেয়ে ওপরের দিকে। ওই সময়ই সবচেয়ে বেশি মানুষ ওই অ্যাপে সময় কাটিয়েছেন বলে খবর।

আরো পরুনঃ  মূল্য বৃদ্ধি - কঞ্জিউমার প্রাইস ইন্ডেক্স (সি পি আই) আসলে কি? সি পি আই এর নেপথ্যে - অমিত গুপ্ত

আরো পড়ুনঃ বাঙালি জাতীয়তাবাদ শুধু আবেগ নয়, বাঁচার লড়াই

শহর থেকে গ্রামে – ছড়িয়ে পরছে এই সুখের সম্পর্ক। তবে পরকীয় লিপ্ত নারীদের অভিযোগ, স্বামীর সঙ্গে বৈবাহিক জীবনে অসুখী, অবজ্ঞা, গার্হস্থ্য জীবনের প্রতিনিয়ত মনমালিন্য, দৈহিক অত্যাচারের কারণেই তারা এ কাজ করছেন। অন্যদিকে, পুরুষের মধ্যে বহুগামিতা বেশি, কারণ অতীতের শিকারী-সংগ্রাহক সমাজে শক্তিশালী এবং প্রতিপত্তিশালী পুরুষেরা যেভাবে নারীর দখল নিত, সেটার পর্যাক্রমিক ছাপ এখনো ক্ষমতাশালী পুরুষদের মধ্যে লক্ষ্য করলে পাওয়া যায়। যা কোভিডের মতন দ্রুত সংক্রমিত সমস্ত শ্রেণিতেই।

আরো পরুনঃ  ডায়মণ্ডহারবার, কাকদ্বীপ, ক্যানিং সাবডিভিশান ধ্বংস হয়ে গেল। এমন ঝড় জীবণে দেখিনি।

আরো পড়ুনঃ মানুষ হতে শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগে না প্রমাণ করেছেন আলপনা মন্ডল।

ইংলান্ড, ফিনলান্ড, স্পেন, বেলজিয়াম, জারমানি, নরওয়ে, অ্যামেরিকা, ফ্রান্স, ইটালি – সব দেশেই বেড়ে চলেছে পরকীয়া। পরিনতি? অত্যাচার, হত্যা – শিশুরাও বাদ যায় না এই পাশবিকতা থেকে। কেউ জমি ছারতে রাজি নয়। সমাজবিদ দের হাল ধরতে হবে- বিবাহ নামক বন্ধনে যেন অকাল মৃত্যু না আসে – আদিম যুগের পথে যেন পিছিয়ে না যায় মানব সভ্যতা। পরকীয়া ঠিক না ভুল – সে প্রশ্ন তোলা থাক ভবিষ্যৎ প্রজন্মর কাছেই।

আরো পড়ুনঃ বঙ্গসন্তান এয়ার মার্শাল ইন্দ্রলাল রায় ছিলেন প্রথম যুদ্ধবিমান চালক

বিবাহ বহির্ভূত শারীরিক সম্পর্ক ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী একটি অপরাধ এবং যে পুরুষ এ ধরণের সম্পর্কে যুক্ত থাকবেন বলে আদালতে প্রমাণিত হবে, তাঁর সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের ব্যবস্থা রয়েছে দণ্ডবিধিতে। কেরালার এক বাসিন্দা কোর্টের কাছে আবেদন করেছিলেন যে ৪৯৭ নম্বর ধারাটি দণ্ডবিধি থেকে বাতিল করা হোক। সেই মামলার শুনানিতেই আদালত প্রশ্ন তোলে যে একটি সম্পর্কে দুজন জড়িত হলেও তাঁদের মধ্যে পুরুষ মানুষটির সাজা হবে, আর নারীর সাজা হবে না, এটা অনুচিত।

আরো পড়ুনঃ সাইকেলে চেপে দুধ বিক্রী থেকে শুরু করে আজ “রেড কাউ ডেয়ারি’র প্রতিষ্ঠাতা

কিন্তু প্রায় দেড়শ বছর আগে দণ্ডবিধিতে যুক্ত হওয়া ওই ধারার যৌক্তিকতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে সর্বোচ্চ আদালত।২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ এল সেই ঐতিহাসিক রায়।

The Supreme Court struck down as unconstitutional the 158-year-old Section 497 of IPC that punished a married man for the offense of adultery if he had sexual relations with a married woman “without the consent or connivance of her husband” but said adultery could continue to be a ground for divorce. — রায় দিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ।”When parties to a marriage lose their moral commitment to the relationship, it creates a dent in the marriage and it will depend upon the parties how to deal with the situation. Some may exonerate and live together and some may seek a divorce… Punishment is unlikely to establish commitment,” The bench said, rebutting the argument that Section 497 worked as a deterrent against spouses going astray.

আরো পড়ুনঃ আগস্ট ২০২০ তে ৩০ লাখ না এক কোটী? ভারতে সংক্রমণ কত হবে? কোভিড ১৯ এর ভারত যাত্রা!

আরো পরুনঃ  দক্ষিনেশ্বরে ৩০০ দুঃস্থ মানুষের জন্য খাবারের আয়োজন করল বেলঘড়িয়া দিশা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি। রইল ভিডিও
আরো পরুনঃ  নিস্তব্ধ, সুমগ্ন দ্বীপের বুকে ডুবে থাকা বেগুন খেতে সূর্যের আলো ঝলসাচ্ছে। জলটা কালো হয়ে পচে, রামধনু-রঙা হয়ে গেছে। সুপুষ্ট বেগুনগুলো বেঁচে তখনও।

“দেড়শ বছর আগে যেভাবে নারী-পুরুষের সম্পর্ককে দেখা হতো, সেটা তো এখন হয় না,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী জয়ন্ত নারায়ণ চ্যাটার্জী। জয়ন্তবাবু বলেন, নারী-পুরুষ উভয়েই এক সঙ্গে কাজ করেন, হয়তো অফিসের প্রয়োজনে বাইরেও যান একসাথে। তাই মেলামেশার ধরণ যেমন পাল্টেছে, তেমনই বদল এসেছে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিতেও।”পরকীয়া শব্দটাকে আগে যেভাবে দেখা হতো, এখন আমরা নিশ্চয়ই সেভাবে দেখি না। অন্যদিকে পরিবার, সমাজ – এগুলোকেও রক্ষা করার প্রয়োজন।তাই দেড়শ বছরের পুরনো আইনের এই ধারাটার বদল ঘটানো প্রয়োজন – সব দিকে সামঞ্জস্য রেখে। ” কলকাতা হাইকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও নারী অধিকার আন্দোলনের কর্মী ভারতী মুৎসুদ্দি বলেন, “প্রশ্নটা অনেকদিন থেকেই উঠেছে যে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িত পুরুষটির সাজা হবে অথচ নারীটির কোনও সাজা হবে না কেন? যে নারী তাঁর স্বেচ্ছাচারের ফলে অন্য এক নারীর সংসার ভাঙ্গছেন, সেটা তো অমার্জনীয় অপরাধ। পুরুষটির যেমন সাজা দেওয়ার বিধান রয়েছে, এরকম সম্পর্কে জড়িত নারীটিরও শাস্তি হওয়া উচিত বলেই আমি মনে করি।”

আরো পড়ুনঃ বিশ্বকবির অন্তিম সময় ও জনতা

নারী অধিকার আন্দোলনের কর্মী, অধ্যাপক শাশ্বতী ঘোষ-এর মতে, “এটা ঠিকই, যদি কোনও বিবাহিতা নারী নতুন করে কোনও সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তার দায়-দায়িত্ব পুরুষমানুষটির যেমন, তেমনই ওই নারীরও। সেই দায়িত্ব তো নারীটিকে নিতেই হবে। সম্পর্কে জড়িয়ে পড়লাম, তার ফল ভোগ করলাম, কিন্তু দোষী হল শুধু পুরুষটি, সেটা তো ঠিক নয়।” যদি সে নারীর স্বামীর সম্মতি থাকে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কটিতে, তাহলে কি তা অপরাধ বলে গণ্য হবে না? প্রশ্ন বিচারপতিদের।তাঁরা এটাও মন্তব্য করেছেন, এই ধারাটিতে শুধু বিবাহিত নারীদের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার প্রসঙ্গ থাকবে কেন? কোনও পুরুষ তো অবিবাহিত নারী বা বিধবা নারীর সঙ্গেও সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারেন, সে ক্ষেত্রে আইনে কেন কিছু বলা থাকবে না?

আরো পরুনঃ  বিধবা মহিলার সাথে প্রতারণা ৪০ লাখেরও বেশী, মাণষিক যন্ত্রণা দিয়ে খুন করার চেষ্টা মামা - ভাগ্নীর ভুয়ো পরিচয়ে - স্বপরিবারে প্রতারণার ব্যাবসা – কোটী টাকা তছরুপীর অভিযোগ #শেষ_অনির্বাণ

আরো পড়ুনঃ ট্রেড লাইসেন্স ছাড়াই অবৈধ ব্যবসা, ফ্ল্যাটের কমন স্পেস আটকানোর প্রতিবাদে মহিলাকে কটুক্তি।

এই প্রসঙ্গে মিজ মুৎসুদ্দির কথায়, “যদি কোনও নারী ব্যভিচারে লিপ্ত হন, সে স্বামীর অনুমতি নিয়েই হোক বা বিনা অনুমতিতে, সাজা তাঁরও হওয়া দরকার। আইনটা থাকাই উচিত, না হলে পারিবারিক-সামাজিক যে মূল্যবোধগুলো রয়েছে, সেগুলো রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। তবে এটাও ঠিক যে আইন করলেই যে সবসময়ে তা কার্যকর হয় তা না, কিন্তু আইনের বিধান থাকলে মানুষ অন্তত ভয় পাবে যে এধরণের সম্পর্কের ফলে তাঁদের জেল হতে পারে।”

আরো পরুনঃ  ডায়মণ্ডহারবার, কাকদ্বীপ, ক্যানিং সাবডিভিশান ধ্বংস হয়ে গেল। এমন ঝড় জীবণে দেখিনি।

আরো পড়ুনঃ প্রাইভেট চেম্বার ফেলে রাস্তায় পড়ে থাকা মহিলা কে সুস্থ করে তুললেন ডাঃ রাজেশ রায়।

এই মামলাটির শুনানি চলাকালীন ভারত সরকার জানিয়েছিল, ৪৯৭ ধারাটি তুলে দেওয়া হলে বিবাহ এবং পরিবার নামের যে ব্যবস্থা সমাজকে ধরে রেখেছে, তা ধ্বংস হয়ে যাবে।
শাশ্বতী ঘোষের মন্তব্য, “নৈতিকতা থাকা দরকার। কিন্তু সবসময়ে কি তাকে আইন দিয়ে বেঁধে রাখা যায়? পরকীয়া প্রেম কি আদৌ অপরাধ হতে পারে? আমার তো মনে হয় না। মন দেওয়া নেওয়া যে কোনও নারী পুরুষের মধ্যেই হতে পারে – তিনি বিবাহিত অথবা অবিবাহিত যাই হোন না কেন। সেটাকে ক্রিমিনালাইজ করা কখনই উচিত নয়।”

আরো পড়ুনঃ পালযুগ থেকে দুর্গার মহিষাসুরমর্দিনী রূপটি বাঙালির মধ্যে বিশেষ ভাবে জনপ্রিয়

তবে আইনজীবী জয়ন্তবাবু মনে করেন, এই বিধানটি একেবারে তুলে দিলে তা ব্যভিচারের আগলটা খুলে দেবে গোটা সমাজে। সেটাও অনুচিত হবে।তাই তিনি মনে করেন , যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরকীয়া বা বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ককে নতুন আইনি দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা উচিত।

আরো পড়ুনঃ স্বাধীনতা সংগ্রা্মী “সুরেশ দে” প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় শ্রীলেদার্স”

শেষ করি এই বলে যে – পরকীয়া নিসন্দেহে অপরাধ। এখানে সম্পর্কটাই শুরু হয় শারীরিক চাহিদা মেটানোর জন্য । কখনও বা আর্থিক কারনে। এর কোন ভবিষ্যৎ নেই। বাচ্চাদের উপর মেন্টাল প্রেশার পরে যদি দেখে তাদের বাবা-মা পরকীয়াতে আসক্ত। এতে যেমন সামাজিক ভাবে হেয় হতে হয় সেরকম পরিবারের ওপর বিশাল ক্ষতি নেমে আসে।আসে হয়ত অবাঞ্ছিত সন্তানেরা। পরকীয়া করার-ই দরকার কি? বর ভাল লাগে না ছেড়ে দিন, বউ ভাল লাগে না ছেড়ে দিন। সমাজ কি বলবে ভাবলে পরকীয়া করেন-ই কেন? আর আইন তো সমাজের জন্য, সমাজের মানুষের জন্য-ই বানানো হয়। সামনে যদি এমন সময় আসে যে পরকীয়া স্স্বাভাবিক তাহলে আইন আর কি করবে ?!


সুগত গুপ্ত — লিগ্যাল কন্সাল্টান্ট

- Advertisement -

আরো প্রতিবেদন

একটি মতামত জানান

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisement -

সদ্য প্রকাশিতঃ