Sunday, June 13, 2021

ভারতীয় অর্থনীতি – ২০ লক্ষ কোটী টাকার সঞ্চারের নেপথ্য কাহিনী।

রাজ্যগুলির মাঠের বাইরে বসে শুধু এই টাকার ফুটবল ম্যাচ খেলা দেখা ছাড়া এই জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলায় তেমন কোন সদার্থক ভুমিকা থাকেনা। অবশ্য আর্থিক ভাবে সমৃদ্ধ রাজ্য গুলি” একলা চলোরে" নীতিতে শামুকের গতিতে চলতে চেষ্টা করবে যেমন দিল্লী রাজ্য।

অবশ্যই পরুনঃ


অমিত গুপ্ত

দেশের প্রধানমন্ত্রীর জাতির উদ্দেশে ভাষণ থেকে যেখানে গল্পটা শুরু ও যদিও পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী ম্যাডাম সীতারমন ৫ দফা বক্তব্যে প্রায় প্রতিক্ষেত্রে বিশাল ঋণে ফাঁদের রাস্তা দেখিয়েছেন। এই ভাবেই ২০লক্ষ কোটি টাকার হিসাব দিয়েছেন যা বাস্তবে কতদুর যাবে সে প্রশ্ন ওঠা খুব স্বাভাবিক, যাইহোক এই ২০ লক্ষ কোটি টাকার জন্য এই প্রশ্নটা জনমনে স্বাভাবিকভাবে উঠে আসে যে এত টাকার provision কোথা থেকে ও কিভাবে হবে কেন বলা হলো না সেজন্যই আমার মতন অজ্ঞ মানুষ দের মনে অনেক প্রশ্নের ভিড় করে থাকে।

আরো পরুনঃ  শেয়ার বাজারের হাল হকিকত

তাহলে প্রশ্ন জাগে আদপেই কি বিশাল টাকার গল্প কাগজে কলমেই সীমাবদ্ধ না বাস্তবে এর প্রকাশ থাকবে? টাকাটা কি রাজ্য সরকারের মাধ্যমেই খরচ হবে না সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারী ব্যবস্থাপনায় খরচ হবে? যদি কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনায় সরাসরি খরচ হয়, তাহলে রাজ্যগুলির মাঠের বাইরে বসে শুধু এই টাকার ফুটবল ম্যাচ খেলা দেখা ছাড়া এই জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলায় তেমন কোন সদার্থক ভুমিকা থাকেনা। অবশ্য আর্থিক ভাবে সমৃদ্ধ রাজ্য গুলি” একলা চলোরে” নীতিতে শামুকের গতিতে চলতে চেষ্টা করবে যেমন দিল্লী রাজ্য।

আরো পরুনঃ  শেয়ার বাজারের কেনাকাটা

এছাড়া টাকা গুলির বণ্টন ব্যবস্থার নীতি কি হবে অর্থাত্ কোন রাজ্যে কত টাকার এলোকেশন পাবে এবং তা কিসের উপর ভিত্তি করে অগ্রাধিকার পাবে, যথা আর্থসামাজিক ভাবে পিছিয়ে পড়া রাজ্যগুলিকে কি অগ্রাধিকার (priority) বা বণ্টনে ব্যবস্থায় বেশী গুরুত্ব/ভার (weight) দেওয়া হবে না কি এক্ষেত্রে রাজনৈতিক রং ও আধিপত্য বেশী গুরুত্ব পাবে এই ব্যাপার গুলি আমি বুঝতে পারিনি কারন প্রধান মন্ত্রীর ঘোষনা তে।

ভিনরাজ্য থেকে পায়ে হেঁটে নিজের রাজ্যের ফেরার পথে

এই principles গুলি সম্পর্কে কোন আলোক পাত করতে শুনলাম না দেখা যাক শেষ পর্যন্ত ঝুলি থেকে কি বিড়াল বের হয়. Let us hope for the best for our beloved country। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর ভাষনের পর পুরো অজানা তথ্যের কিছুটা পরিষ্কার হলো ,যদিও ও এই পরিপ্রেক্ষিতে বলি যে এই ২০ লক্ষ কোটি টাকার মধ্যে ইতিপূর্বেই কেন্দ্রীয় সরকার মোটামুটি ১২.৫ লক্ষ কোটি টাকার সঞ্চার ইতিপূর্বেই ঘোষিত অতএব এই টাকাটা নতুন infusion হচ্ছে না এছাড়া প্রধান মন্ত্রীর অধুনা নিজস্ব তহবিল PM CARES FUND থেকে প্রায় ৩ লক্ষ কোটি টাকার অনুদান দেওয়া হয়েছে।

আরো পরুনঃ  অথ করোনার করুণা ও আমার কথা

তবে প্রশ্ন এটা ই যে ভারত সরকার যে এই অর্থ নিজ উদ্যোগেই জাতীয় বিপর্যয় রক্ষা আইনের আঙ্গিনায় এই স্টিমুলাশ প্যাকেজ খরচ করে তাহলে তা কি রাজ্য গুলি থেকে বিভিন্ন আদায়কূত ট্যাক্স বাবদ উৎস হতে প্রাপ্ত টাকা? যদি তাই হয় তাহলে Democratic Federal Structure বিষয়টা বলতে কি বোঝায়? এক্ষেত্রে রাজ্য গুলির কাজ কি শুধু কেন্দ্রীয় সরকারের এটাচি/থলি ধরা ? যে সাংবিধানিক পরিকাঠামোও এই Federal Structure এর রক্ষা কবজ -সেটা তাহলে সেটা কি ?

আরো পরুনঃ  অথ করোনার করুণা ও আমার কথা

উল্লেখিত Disaster Management Act মানে এক কথায় আতপ কালীন বিপর্যয়ের মোকাবিলা সংক্রান্ত আইনের সংস্থান. তার মানে কি এটা বোঝায় যে দেশের মানুষের শ্রমে কষ্টার্জিত টাকা সুচারু ভাবে বণ্টন পরিকল্পনা ব্যতিরেকে তার priorities, weights, regional imbalance of economic /wealth distribution system না মেনে এই scarce money distribution এর কথা disaster management act এর provision mention কি করা আছে?

যদি না থাকে তাহলে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোও গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় রাজ্যের মতামতেরও সক্রিয় ভূমিকা অবশ্যই থাকা উচিত কারন এটা public money, এখানে সর্ব স্তরের participation ছাড়া এক তরফা ভাবে কারুর খুশি মত খরচা করার অধিকার নিয়েও প্রশ্ন উঠে ও এটা কতটা ফলপ্রদ হবে সেটাও প্রশ্ন বোধক হবে কারন আমরা জানি “একের বোঝা দশের লাঠি “এই আপ্ত বাক্যটি মেনে চললে নিশ্চিত ভাবেই দেশের অর্থনীতি গতিশীল হয়ে এগিয়ে যাবে দেশ ও দশেরও হিতসাধন হবে। তাই দেশের উন্নয়ন, মানুষের উন্নততর জীবনযাত্রার মানের স্বার্থে ক্ষুদ্র রাজনৈতিক স্বার্থ ব্যতিরেকে রাজ্যগুলিকেও এই উন্নয়নে সামিল করে চলাই কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে যথাযথ পদক্ষেপ হবে বলেই মনে করি।

- Advertisement -

আরো প্রতিবেদন

একটি মতামত জানান

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisement -

সদ্য প্রকাশিতঃ