Thursday, June 24, 2021

বেসরকারি হাসপাতালের নার্সরা দলবদ্ধ ভাবে রাজ্য ছাড়ছেন!

এই নার্সদের সিংহভাগ মোটামুটি ভাবে মনিপুর, মেঘালয়, গাড়োয়াল, কেরলা প্রভৃতি এই সব রাজ্য থেকে পশ্চিম বঙ্গে এসে ছিলেন মূলতঃ রুটি রুজির কারনে এবং বেশ কিছুদিন যাবত এই রাজ্যে কাজ করেছেন। এত সব গুনাবলী থাকা সত্তেও তারা আপন আপন রাজ্য ছেড়ে এই রাজ্যকে নিজেদের কর্মস্থল হিসাবে বেছে নিয়ে ছিলেন কেন?

অবশ্যই পরুনঃ

অমিত গুপ্ত

রাজ্যের বেসরকারি হাসপাতালগুলির পরিকাঠামোয় পরিসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে গুনগত মান বজায় রাখার ক্ষেত্রে এক বিশাল আকারের সমস্যা সৃষ্টি করছে নার্সদের দলবদ্ধ ভাবে রাজ্য ছেড়ে যাওয়া। এটা কি তবে দলবদ্ধ ভাবে home sickness?

আরো পরুনঃ  দক্ষিনেশ্বরে ৩০০ দুঃস্থ মানুষের জন্য খাবারের আয়োজন করল বেলঘড়িয়া দিশা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি। রইল ভিডিও

না, উন্নততর কর্ম পরিবেশের হাতছানি ধোঁয়াশা এইখানেই। কিন্ত সব রাজ্যেই তো বর্তমান সময়ে কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে সামনে রেখে নতুন কর্ম প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বোর্ডে বড় বড় করে লিখে দিয়েছে “ঠাঁই নেই, ঠাঁই নেই ছোট সে তরী, আমারই সোনার ধানে গিয়াছে ভরি
তাহলে কি হতে পারে? সবই কি শুধু ঝাপসা দেখি ও বুঝি।

এই নার্সদের সিংহভাগ মোটামুটি ভাবে মনিপুর, মেঘালয়, গাড়োয়াল, কেরলা প্রভৃতি এই সব রাজ্য থেকে পশ্চিম বঙ্গে এসে ছিলেন মূলতঃ রুটি রুজির কারনে এবং বেশ কিছুদিন যাবত এই রাজ্যে কাজ করেছেন।

ris-hospital-naktala-kolkata
IRIS Hospital – Kolkata

এদের খাওয়া, থাকা, যাতায়াত ও নিরপত্তার দায়ভার সংশ্লিষ্ট হাসপাতালেরই নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় করা হয়েছিল. মাস মাহিনা, Overtime ছাড়াও বেশ কিছু আনুসাঙ্গিক সুবিধাও এরাও হাসপাতাল থেকে প্রায় নিখরচাই পেতেন. যদিও কেও কেও বলছেন এদের কে পারিশ্রমিক হিসাবে যথেষ্টই কম দেওয়া হতো ও বেড পিছু নার্সের সংখ্যা নির্ধারিত গাইড লাইন অনুযায়ী না মেনে অতিরিক্ত আরো বেশি বেডের দ্বায়িত্ব ভার দিনের পরদিন বহন করতে হতো. তাই আর্থিক কারনেই এরা রাজ্য ছাড়ছেন।

আরো পরুনঃ  দক্ষিনেশ্বরে ৩০০ দুঃস্থ মানুষের জন্য খাবারের আয়োজন করল বেলঘড়িয়া দিশা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি। রইল ভিডিও

এদের বেশীর ভাগই কর্মদক্ষ, পরিশ্রমী, দ্বায়িত্বশীল, অমায়িক আচরণ নিয়েই নিজ নিজ কাজ করছিলেন। এ বিষয়ে আমার নিজস্ব অভিজ্ঞতা এই রকমই। এদের বেশীর ভাগের পারর্দশিতা প্রশ্নাতীত। কিন্তু প্রশ্ন এটা যে, এত সব গুনাবলী থাকা সত্তেও তারা আপন আপন রাজ্য ছেড়ে এই রাজ্যকে নিজেদের কর্মস্থল হিসাবে বেছে নিয়ে ছিলেন কেন? কারন তাদের নিজ রাজ্যে কর্ম সংস্থানের সুযোগ ও অন্য সব সুবিধা গুলি এই রাজ্যের প্রাইভেট হাসপাতাল গুলি থেকে অবশ্যই কম ছিল তাই তারা এ রাজ্যেই ঠাঁই নিয়ে ছিলেন।

আরো পরুনঃ  ভারতীয় অর্থনীতি - ২০ লক্ষ কোটী টাকার সঞ্চারের নেপথ্য কাহিনী।

এখন একথা ভাবার কোন কারন নেই যে বর্তমানেও এদের আপন আপন রাজ্যে প্রাইভেট হাসপাতালগুলিতে কর্মের সুযোগ বা কর্মীর চাহিদা এত বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে যে এই সব নার্সরা তাদের আপন আপন রাজ্যে কাজে বহাল হয়ে যাবেন এবং কলকাতার প্রাইভেট হাসপাতাল গুলির থেকে এর সমান বা কম বেশী পারিশ্রমিক পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে কাজে যোগদান করবেন। সুতরাং এরা সমষ্টি গত ভাবেই সব জেনে বুঝেই কিছু সময়ের জন্য স্বেচ্ছায় কর্ম হীনতার পথ বেছে নিয়েছেন বলা চলে। এক্ষেত্রে সম্ভাব্য মূল কারন মনে হয় এরাও কোভিড-১৯ এর ছোঁয়াচে চরিত্রকে ভয় পেয়ে আপন প্রাণ বাঁচানোর তাগিদেই রাজ্য ছাড়ছেন।

আরো পরুনঃ  শেয়ার বাজারের কেনাকাটা

আর্থিক বঞ্চানা বা অন্য কোন ক্ষোভের কারনে দলবদ্ধ ভাবে এক সাথে এত জন কাজ ছেড়ে ভবিষ্যতে রোজগারের অনিশ্চিয়তার পথে হাঁটতেনানা। আমরা যেমন নিজেরা “Stay Safe” থাকতে চাইছি একই ভাবে এরাও তাই চাইছে বলেই ধারণা। আপাতত প্রাণের দায়ের প্রাথমিকতা ভবিষ্যতের রোজগারের ভাবনার দায় থেকে বেশি বলেই মনে হচ্ছে। কোভিড -19 এর প্রকোপ কমে গেলে সম্ভবত এরা পুনরায় এ রাজ্যের পথেই পা বাড়াবে ঐ রুটি রুজির তাগিদেই।

- Advertisement -

আরো প্রতিবেদন

একটি মতামত জানান

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisement -

সদ্য প্রকাশিতঃ