ক্রমাগত সুদের হার কমানো কতটা যুক্তি সঙ্গত

তাই নিবেদন এই যে এই দুঃসময়ে ego ত্যাগ করে হাতুড়ে বাদ দিয়ে যোগ্য বিশেষজ্ঞ অর্থনীতিবিদ দের সাহায্য নিয়ে দেশের Fiscal ও Monetary বিষয় গুলি সম্পর্কে কেন্দ্রীয় সরকার সিদ্ধান্ত নিক.এই দুঃসময়ে ইতালি থেকে অস্ত্র না কিনে ঐ 197 লক্ষকোটি টাকা দেশের banking system ঐ টাকাটা infuse করলে দেশের রুগ্ন অর্থনীতি অন্তত আরো কিছুটা অক্সিজেন পেত।

0
503
ক্রমাগত সুদের হার কমানো কতটা যুক্তি সঙ্গত
- বিজ্ঞাপন -


          অমিত গুপ্ত


দীর্ঘকালিন মেয়াদ বা পাঁচবছরের অধীক মেয়েদের যাবতীয় সন্চয় প্রকল্পের ওপর  সম্প্রতি ভারত সরকার ফের এক দফা সুদের হার কমিয়েছে যার আওতা থেকে Senior citizen দেরও বাদ দেওয়া হয়ননি।

- বিজ্ঞাপন -

সাধারন অভিজ্ঞতা এই যে বিগত কয়েক বছর ধরেই ধারাবাহিক ভাবেই bank এর সুদের হার কমানোর প্রবনতা বেড়েছে ও UPA আমলের ৯.৬% থেকে কমতে কমতে ৪% কাছাকাছি ঠেকেছে জানিনা এই অধোগতির শেষ কোথায় ও স্বাভাবিক ভাবেই যে সব মানুষের জীবন ধারন শুধুমাত্র সুদের আয়ের ওপর নির্ভরশীল তাদের আয়ের সংস্থান অনেকটাই সংকোচিত হয়েছে ও জীবনযাত্রার মান বেশ খানিকটা নীচে চলে এসেছে যা দেশ ও সমাজ ব্যবস্থা উভয়েরই কাম্য নয়.এখন দেখা যাক সুদের হার কমানোর পিছনে যে যুক্তি কতটা সদার্থক?

১মতঃ সুদের হার কমিয়ে মানুষকে সঞ্চয় বিমুখ করে বেশী মাত্রায় ব্যয় প্রবণতার মাধ্যমে বাজারী অর্থনীতিতে চাহিদার মাত্রা বৃদ্ধি করা এই যুক্তিটি একান্তভাবেই সারবত্তাহীন কারন নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের  অত্যাধিক মূল্যবূদ্ধি ও ভোগ্য পন্যের সূচকের লাগাম ছাড়া বূদ্ধি(৭.৮৫%)সাধারন মধ্যবিত্ত মানুষের পেটের ভাতের সংস্থান করাই এখন  বিশাল সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে ফলতঃ Consumerism হ্রাস পাচ্ছেএ।

খন বিদেশী বিনিয়োগ এর মূল কারন ছিল ভারতবর্ষের বাজারে Consumer সংখ্যা high যেটা  বিদেশী বিনিয়োগকে উত্সাহিত করতো ও বূদ্ধি করতো .কিন্তু মানুষের Spending index মন্দীভূত হওয়ায় বিদেশী বিনিয়োগ বূদ্ধি ও সোনার হরিণ হয়ে যাচ্ছে।

আরো পরুনঃ  শেয়ার বাজারে কেনাকাটা - ১৯-০৫-২০২০

২য়তঃ ফল স্বরূপ এই সময়ই উত্পাদন বৃদ্ধি অলীক কল্পনা বিলাশ ছাড়া আর কিছু নয় এবং বাস্তব ঘটনা এই যে  Index of Industrial production যা এখন বিশ্বব্যাপী Kovid 19 এর কারনে লকডাউন জনিত পরিস্থিতিতে সম্ভবত ঋণাত্মক হয়ে গেছে যেটা  অন্তত GDP forecast থেকে মনে করাই স্বাভাবিক ঘটনা .এখন বাজার অর্থনীতিকে চাঙ্গা  ও পরিষেবা ,শিল্প  ,কৃষি ক্ষেত্রে আভ্যন্তরীন সম্পদের পরিমাপের (Gross Domestic Products )GDP বৃদ্ধির হারকে মন্দীভূত হওয়া থেকে নিবৃত্ত করার জন্য সুদের হার কমানো কতটা যুক্তি সঙ্গত সিদ্ধান্ত তা আলোচনা করা যেতে পারে.বাস্তব দিক দিয়ে উল্লিখিত ২টি বিষয়কে বিচার করলে এখন  আমরা যে চিত্র দেখতে পাই তা হলো যথাক্রমে :-

১মতঃ আর্থিক সম্পদ বণ্টনের  বৈষম্য আমাদের দেশে এতটাই প্রকট যে দেশের প্রায় ৮০% শতাংশ সম্পদ মাত্র ৫২ টি পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ যাঁরা তাদের গচ্ছিত সম্পদের ব্যবহার বাজারী অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে investment এর পথে হাঁটতে আদৌ ইচ্ছুক নন কারন এই সম্পদের বেশ কিছুটা বিদেশে গচ্ছিত Cash বা Kind ইতিপূর্বেই চালান করেছেন যার সিংহভাগ বেনামে বা Swiss bank গচ্ছিত করে ও দেশের কর ব্যাবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে. বাকী অংশ কিছুটা বহু মূল্যবান রত্নাদিতে, স্থাবর সম্পত্তি ক্রয়ে নিয়োজিত ও অবশিষ্ট অংশ সাদা কালোও মেশানো Currency তে ব্যক্তিগত স্তরে সঞ্চিত।

আরো পরুনঃ  অথ করোনার করুণা ও আমার কথা

এদের বিনিয়োগের বূহদাংশই ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ বাবদ  উত্স থেকেই আসে.কাজেই  এঁদের মাধ্যমে বাজার অর্থনীতিতে  Fresh liquidityর অনুপ্রবেশের পথ নিতান্তই সীমাবদ্ধ.২য়তঃ যদি তর্কের খাতিরে ধরে নিই যে বাকী ২০শতাংস সম্পদের অধিকারি আপামোর জনগন ও তারা যদি সকলেই তাদের আপতকালীন সময়ের মোকাবিলার জন্য তিল তিল করে জমানো সম্পদকে মূল উদ্দেশ্যকে জলাজ্ঞলী দিয়ে তাদের সঞ্চিত সমস্ত সম্পদ বাজার অর্থনীতিতে নিবেশ করে ,ক্ষেত্রও সেই অল্প পরিমান বিত্ত দিয়ে দেশের সামগ্রীক বাজার অর্থনীতিতে আর্থিক যোগানের বন্যা বইয়ে উত্পাদন শিল্পের ব্যাপক প্রসার ও তার মাধ্যমে তরতরিয়ে GDP groth rate বৃদ্ধিও একান্তই অলীক কল্পনা বিলাস মাত্র।

যার সঙ্গে বাস্তব অবস্থার কোন প্রতিফলন থাকবেনা.সুতরাং সমস্ত বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখা যাচ্ছে যে ক্রমাগত সুদের হারে কমিয়ে দিয়ে অর্থনৈতিক বিকাশের পথ আদৌ প্রশস্ত হচ্ছে না উল্টে সুদের হার হ্রাসের ফলে বহু মানুষের আয়ে কোপ পড়ে সামগ্রীক জীবন যাত্রার মান ক্রমশই নিম্নমুখী হচ্ছে ও মানুষের ব্যায় ক্ষমতা হ্রাস পেয়ে দেশ আরো মন্দার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে যা দেশের চলতি আর্থিক অবস্থার পক্ষে নিতান্তই ক্ষতিকারকএ।

আরো পরুনঃ  শেয়ার বাজারের হাল হকি কত - 30/08/2020 - আমিত গুপ্ত

ই সব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মনে হচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক নীতি নির্ধারনে প্রকৃত জ্ঞান সম্পূর্ন  যোগ্য মানুষের অভাব বাস্তবিকই প্রকট.এখানে রোগের কারন জেনে যথাযথ চিকিত্সা পদ্ধতি অবিলম্বে না নিলে Kovid19 এ আক্রান্ত মানুষের থেকেও সাধারন মধ্যবিত্ত মানুষ আর্থিক দুরাবস্থার কারনে আরো বেশী সংখায় অসুস্থ হবে ও সেইসঙ্গে দেশের অর্থনীতির অসুখ ক্রমেই জটিল হয়ে যাবে হয়তো বা দুররোগ্য এক কথায় “দেওলিয়া অর্থনীতি”র  দেশ হিসাবে আমাদের দেশের নামও সেই তালিকায় যোগ হবে।

তাই নিবেদন এই যে এই দুঃসময়ে ego ত্যাগ করে হাতুড়ে বাদ দিয়ে যোগ্য বিশেষজ্ঞ অর্থনীতিবিদ দের সাহায্য নিয়ে দেশের Fiscal ও Monetary বিষয় গুলি সম্পর্কে কেন্দ্রীয় সরকার সিদ্ধান্ত নিক.এই দুঃসময়ে ইতালি থেকে অস্ত্র না কিনে ঐ 197 লক্ষকোটি টাকা দেশের banking system ঐ টাকাটা infuse করলে দেশের রুগ্ন অর্থনীতি অন্তত আরো কিছুটা অক্সিজেন পেত।

- বিজ্ঞাপন -