Monday, June 14, 2021

দ্বিতীয় বল্লালসেন। কে ছিলেন কিংবদন্তীর দ্বিতীয় বল্লালসেন?

দ্বিতীয় বল্লালসেন বীর যোদ্ধা ছিলেন। বায়াদুম্ব নামক সুফি হানাদার কথিত আছে ৭০০০ সৈন্য নিয়ে আক্রমণ করেন বিক্রমপুর রামপালে বল্লালের রাজধানী। বল্লাল এদের পরাস্ত করেন এবং বায়াদুম্বের শিরচ্ছেদ করেন।

অবশ্যই পরুনঃ

ইনি বিক্রমপুরে পঞ্চদশ শতকে রাজত্ব করতেন। ইনি পোড়ারাজা নামেও খ্যাত। ইনি হানাদার বায়াদুম্ব অর্থাৎ বাবা আদমকে হত্যা করেছিলেন। বিক্রমপুর রামপাল অঞ্চলে পালসেনযুগে ছিল গৌড়বঙ্গের অন্যতম রাজধানী।

মধ্যযুগের শুরুতে মুসলমান হানাদারিকে পরাস্ত করে অনেকদিন এখানে সেনরা রাজত্ব করেন। শেষ যে সেনরাজা গৌড়েশ্বর উপাধি ধারণ করেন, তিনি মধুসেন, সময়টা ১২৮৯ সাল। ইনি পরমসৌগত অর্থাৎ বৌদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন।এরপর মূল সেনবংশের শাসন শেষ হয়ে যায় সম্ভবত। কারণ ধন্বন্তরীগোত্রীয় এক বল্লালসেন বিক্রমপুর রামপালের শাসন করছেন পঞ্চদশ শতকে (প্রথম বল্লালসেন বৈশ্বানর গোত্রীয়#বল্লালসেন ছিলেন)।

আরো পরুনঃ  বাঙালির ইতিহাস - ডাঃ তমাল দাশগুপ্তর কলমে

আরো পরুনঃ মধ্যযুগের সাতটি ফেক নিউজ – ডাঃ তমাল দাশগুপ্ত

যিনি বায়াদুম্ব অর্থাৎ বাবা আদম নামক সুফি হানাদারের সঙ্গে যুদ্ধ করেন। বল্লাল চরিত নামে দুটি গ্রন্থ আছে, আনন্দভট্ট রচিত। খুব একটা নির্ভরশীল নয়, গ্রন্থ দুটির বিরুদ্ধে জাল অপবাদ আছে। কিন্তু এ দুটির অন্তত একটি গ্রন্থ মধ্যযুগে রচিত, ষোড়শ শতকে। দুটিতেই বায়াদুম্ব ও বল্লালসেনের যুদ্ধের উল্লেখ আছে।বাবা আদম ওরফে বায়াদুম্ব ঐতিহাসিক চরিত্র এবং পাথুরে প্রমাণ আছে। এই বায়াদুম্বের স্মৃতিতে তাঁর কবরের ওপরে একটা মসজিদ নির্মিত হয়েছিল মালিক কাফুরের দ্বারা, ১৪৮৩ খ্রিষ্টাব্দে, অর্থাৎ পঞ্চদশ শতকের শেষের দিকে।

আরো পরুনঃ  গৌড় বনাম বাঙ্গালা এবং বাঙালি জাতির জন্ম ঃ মধ্যযুগ

আরো পরুনঃ বাঙালি জাতির প্রাচীনতম সম্রাট – পৌণ্ড্রক বাসুদেব – ডাঃ তমাল দাশগুপ্ত

এই বায়াদুম্ব-হন্তা বল্লালসেনকে প্রথম বল্লালসেনের সঙ্গে এক করে ফেলেছে মধ্যযুগে রচিত বল্লালচরিত। প্রথম বল্লালসেনের সময়কাল, জীবনী, ঘটনাপ্রবাহ, কিছুই এই বায়াদুম্ব নামক সুফি হানাদারের সঙ্গে মিলছে না। দ্বিতীয় বল্লালসেন বীর যোদ্ধা ছিলেন। বায়াদুম্ব নামক সুফি হানাদার কথিত আছে ৭০০০ সৈন্য নিয়ে আক্রমণ করেন বিক্রমপুর রামপালে বল্লালের রাজধানী। বল্লাল এদের পরাস্ত করেন এবং বায়াদুম্বের শিরচ্ছেদ করেন।যেখানে এই দ্বিতীয় বল্লালের রাজধানী, এবং যেখানে এই যুদ্ধ হয়েছিল, সেই বল্লাল দীঘি (রামপাল দীঘি নামেও খ্যাত) এবং সংলগ্ন অঞ্চলের কোনও প্রত্ন খনন আজও হয়নি যতদূর জানি। কিন্তু যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত এই স্থানে সরেজমিনে অনুসন্ধান করে তাঁর বর্ণনা লিখে গেছেন। বল্লাল বাড়ি।

আরো পরুনঃ পালযুগ থেকে দুর্গার মহিষাসুরমর্দিনী রূপটি বাঙালির মধ্যে বিশেষ ভাবে জনপ্রিয়

২০০ ফিট প্রশস্ত পরিখা আছে চারদিকে, দেখে বোঝা যায় সুবৃহৎ রাজপ্রাসাদ ছিল। বিপুল আয়তনের সুগভীর চৌগাড়া দেখে সম্ভ্রম জাগে, যোগেন্দ্রনাথ বলছেন। দক্ষিণদিকে বহির্বাটি। দক্ষিণদিকের পরিখার নিকটে পুকুর থেকে নটরাজ মূর্তি পাওয়া গিয়েছিল। কাছে নাটেশ্বর দেউল, সেখানে ইঁটের স্তুপ কেবল। এর অল্প দূরে সোনারঙ দেউল। রাজপথ। বল্লাল বাড়ি ও রামপালের দীঘির পশ্চিম পাড় থেকে একটি সুপ্রশস্ত রাজপথ, স্থানে স্থানে ২৫০ হাত চওড়া। বোঝা যায় একটি সুবৃহৎ সেনাবাহিনীর চলাচলের উপযুক্ত ছিল। এর নাম কাচকির দরজা। মিঠাপুকুর ও অগ্নিকুণ্ড। বল্লালবাড়ির ঠিক মাঝখানে মিঠাপুকুর নামে একটা পুষ্করিণী আছে, তার পাশে একটা সুগভীর গর্ত, একে অগ্নিকুণ্ড নামে ডাকা হয়। যোগেন্দ্রনাথ বলেন যে কোদাল দিয়ে খনন করায় এখানে প্রচুর কয়লা বেরোচ্ছিল তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন। অতীতে কখনও একটা ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছিল সন্দেহ নেই।বলা হয়, বাবা আদমের সঙ্গে যুদ্ধের আগে বল্লাল তাঁর অন্তঃপুরিকাদের জানিয়ে যান, একটি সংবাদবাহী পারাবত উড়ে আসবে যদি তিনি যুদ্ধে নিহত হন।

আরো পরুনঃ  কাশীপুরের রাজবাড়ি ও পঞ্চকোটের রাজবংশ - দ্বিতীয় দফার পুরুলিয়ার ডায়েরীঃ পর্ব-৩
আরো পরুনঃ  পালযুগ থেকে দুর্গার মহিষাসুরমর্দিনী রূপটি বাঙালির মধ্যে বিশেষ ভাবে জনপ্রিয়

আরো পরুনঃ বাণিজ্যনগরী কলকাতার স্রষ্টা কি বাঙালি তন্তুবণিক শেঠ-বসাক পরিবার? ডাঃ তমাল দাশগুপ্ত

বল্লাল যদিও বাবা আদমকে যুদ্ধে পর্যদুস্ত করেন এবং নিহত করেন। কিন্তু ভুলবশত পায়রাটি উড়ে যায়। বল্লালের অন্তঃপুরে সবাই আগুনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মবিসর্জন করেন। বল্লাল ফিরে এসে শোকে দুঃখে নিজেও সেই আগুনেই সহমৃত হন।এই কাহিনীর একটি ভিন্ন ফরম্যাট চন্দ্রকেতুগড় অঞ্চলে পীর গোরাচাঁদের হানাদারি সম্পর্কে প্রচলিত আছে।

আরো পরুনঃ পথ দেখালো বাংলা – প্রথম বৃহন্নলা বিচারপতি “জয়িতা মন্ডল”

সময়কাল: এ ঘটনার সময়কাল সম্পর্কে আমি নিশ্চিত হতে পারিনি। কিন্তু বল্লালচরিতের রচনাকাল ও বাবা আদমের মসজিদের তারিখ দেখলে মনে হয় এই যুদ্ধ পঞ্চদশ শতকের মধ্যভাগে কোনও সময় ঘটে থাকবে।মধ্যযুগে প্রায় প্রত্যেক বহিরাগত হানাদারই বাঙালি কর্তৃক পর্যদুস্ত, প্রায় সবাই শহীদ হয়ে গেছেন। বাবা আদম বা পীর গোরাচাঁদ বা জাফর খান গাজি – সবাই কাফেরহস্তে নিহত। এদের সকলের অগ্রদূত বখতিয়ার নিজেই পরাস্ত হয়ে পলায়ন করেছিল। এ একটা প্রহেলিকা! এত বীর যে বাঙালি জাতি, সে অদৃষ্টের ভুলে কিভাবে বারবার ভূলুণ্ঠিত হল।

আরো পরুনঃ বিশ্বকবির অন্তিম সময় ও জনতা – অনিকেত চৌধুরী

আরো পরুনঃ  বন্দেমাতরম! ধ্বংস হও; দীনেশ গুপ্তর অবিচারে ফাঁসি দেওয়ার পুরস্কার লও: ইতি - বিমল গুপ্ত
আরো পরুনঃ  বাণিজ্যনগরী কলকাতার স্রষ্টা কি বাঙালি তন্তুবণিক শেঠ-বসাক পরিবার? ডাঃ তমাল দাশগুপ্ত

তমাল দাশগুপ্ত Tamal Dasgupta

ছবিতে দেখছেন বাবা আদমের মসজিদ, উইকিমিডিয়া থেকে ছবিটা নেওয়া। বাবাজির মরদেহ এর কাছেই একটি সমাধির নিচে শায়িত, একটি স্মারক হিসেবে। সে স্মারক দ্বিতীয় বল্লালের জয়, সমগ্র বাঙালি জাতির জয়, সারা বিশ্বের কাফেরদের জয় ঘোষণা করে চলেছে আজও।

আরো পরুনঃ বন্দেমাতরম! ধ্বংস হও; দীনেশ গুপ্তর অবিচারে ফাঁসি দেওয়ার পুরস্কার লও: ইতি – বিমল গুপ্ত

- Advertisement -

আরো প্রতিবেদন

একটি মতামত জানান

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisement -

সদ্য প্রকাশিতঃ