Monday, June 14, 2021

দেউল – দ্বিতীয় দফার পুরুলিয়ার ডায়েরীঃ পর্ব-২

কালের প্রভাবে আর পাঞ্চেত জলাধার তৈরীর জন্য সেগুলো প্রায় সবকটাই হারিয়ে গিয়েছে তবুও তারমধ্যে জলাধারে একটি অর্ধ নিমজ্জিত দেউল আছে যা কিনা চরিত্রহীন-৩ ওয়েব সিরিজের দৌলতে এখন পুরুলিয়া ভ্রমণ পিপাসুদের দেখার জায়গার মধ্যে ঢুকেছে।

অবশ্যই পরুনঃ

সৌরভ দাশগুপ্তর পাতা থেকেঃ কাশীপুর বিধানসভা নির্বাচনের ফাঁকে ফাঁকে আমি আমার যেসব পুরোনো পছন্দের জায়গায় বার বার গিয়েছি তার মধ্যে এই পড়ন্ত আলোর বিকালে বান্দার দেউল ভ্রমণ অনেকদিন মনে থাকবে।

আরো পরুনঃ  ম্যাকার্থির কমিউনিস্টবিরোধী 'রেড ভীতি' কীভাবে আজও প্রাসঙ্গিক

আরো পড়ুনঃ কাশীপুরের রাজবাড়ি ও পঞ্চকোটের রাজবংশ – দ্বিতীয় দফার পুরুলিয়ার ডায়েরীঃ পর্ব-৩

আসলে এবার বান্দা ঘোরার পিছনে উদ্দেশ্য ছিল পিছনের ব্যাকড্রপে পলাশ বনকে রেখে বান্দার দেউলের ছবি তোলা। কিন্তু যেসময় গিয়েছিলাম সেসময় পলাশবনে আগুণ ধরেনি।

তাই বিফল মনোরথ হয়ে ফিরে যাওয়ার আগে সামনের ঢিপিটাতে বসে পড়ন্ত আলোয় বান্দার দেউলের এই ছবিটা তুলেছিলাম।

আরো পড়ুনঃ গৌড় বনাম বাঙ্গালা এবং বাঙালি জাতির জন্ম ঃ মধ্যযুগ

পুরুলিয়ার রঘুনাথপুর শহর থেকে যে রাস্তাটি সোজা চলে গেছে রঘুনাথপুর-২ ব্লক অফিস অর্থাৎ চেলিয়ামা গ্রামের দিকে, সেই রাস্তার ডান দিকে পড়ে বান্দা গ্রাম। খুব সুন্দর পীচ রাস্তার দৌলতে রঘুনাথপুর শহর থেকে এখন ২০ মিনিটের মধ্যেই পৌছানো যায় বান্দায়।

রাস্তার পাশে বোর্ডে নাম দেখে মূল রাস্তা থাকে নেমে ডানদিকে প্রায় ১ কিলোমিটার হাঁটাপথে এই দেউল প্রাঙ্গণে পৌঁছনো যায়। প্রায় ৭০ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট প্রস্তর নির্মিত এই দেউলটি আসলে রেখ দেউল।

আরো পরুনঃ  দ্বিতীয় বল্লালসেন। কে ছিলেন কিংবদন্তীর দ্বিতীয় বল্লালসেন?

আরো পড়ুনঃ গান্ধী সেবা সঙ্ঘের সাহায্যার্থে সৃষ্টি ডান্স একাডেমি ও ইচ্ছে ডানা আয়োজিত শেষ বসন্ত উৎসবে একঝাঁক শিল্পী সমাগম।

খ্রীষ্টীয় নবম-দশম শতাব্দীতে গড়ে ওঠা এই আশ্চর্য প্রত্নতাত্বিক নির্দশন দিগন্ত বিস্তৃত পলাশ প্রান্তরে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে হাজার বছর ধরে।

যখন তৈরী হয়েছিল এই দেউলটি, জৈনদের প্রভাব তখন সমগ্র পুরুলিয়া জুড়ে। প্রায় ২৫০ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ১৫০ ফুট প্রস্থ বিশিষ্ট একটি বৃহৎ বেদির ওপর দাঁড়িয়ে আছে এই দেউলটি; যদিও সেই বেদিটির বেশির ভাগ অংশের পাথর পড়ে গেছে।

আরো পড়ুনঃ দ্বিতীয় বল্লালসেন। কে ছিলেন কিংবদন্তীর দ্বিতীয় বল্লালসেন?

আরো পরুনঃ  5 টি সেরা মাউই হেলিকপ্টার ট্যুর

দেউলটি উত্তরমুখী। সম্মুখে পাথরের নির্মিত বিরাট মণ্ডপ। মনে করা হয় অতীতে এটি অনেক বড় ছিল, বর্তমানে যার সামান্য অংশই টিকে আছে। দেউলটির প্রবেশ পথের উচ্চতা প্রায় ৬ ফুট, প্রস্থেও প্রায় ৩ ফুট।

প্রবেশ পথে চোখে পড়ে প্রস্তর খোদিত অসামান্য কারুকার্য। মনুষ্য কৌতুকী, লতাগুল্ম, বিবিধ বাদ্যযন্ত্র বাজানোর দৃশ্য অসামান্য ভাবে ফুটিয়ে তুলে ছিলেন সেই সময়ের পাথর খোদাই শিল্পীরা।

আরো পড়ুনঃ বাঙালির ইতিহাস – ডাঃ তমাল দাশগুপ্তর কলমে

আরো পরুনঃ  বাঙালি জাতির প্রাচীনতম সম্রাট - পৌণ্ড্রক বাসুদেব - ডাঃ তমাল দাশগুপ্ত

বান্দার অনতিদূরেই অবস্থিত অতীতের সেই বিখ্যাত তৈলকম্প বন্দর বা তেলকূপি যেখানে একসময় এই ধরণের ২১ টি দেউল দেখেছিলেন জে ডি বেগলার সাহেব।

কালের প্রভাবে আর পাঞ্চেত জলাধার তৈরীর জন্য সেগুলো প্রায় সবকটাই হারিয়ে গিয়েছে তবুও তারমধ্যে জলাধারে একটি অর্ধ নিমজ্জিত দেউল আছে যা কিনা চরিত্রহীন-৩ ওয়েব সিরিজের দৌলতে এখন পুরুলিয়া ভ্রমণ পিপাসুদের দেখার জায়গার মধ্যে ঢুকেছে।

আরো পড়ুনঃ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে আমরি হাসপাতাল ও বাঙালি বৈদ্য সমাজ সম্মানিত করল সমাজের বিভিন্ন কৃতি মহিলাদের

এই তেলকূপি নিয়ে পরে বিস্তৃত লেখার ইচ্ছে রইলো। অনুসন্ধিতসু পাঠক যদি বান্দার দেউল নিয়ে আরেকটু বিশদে জানতে চান তাহলে আমার নীচের পোস্টটির লিংকটিতে ক্লিক করে পড়ে দেখতে পারেন।

আরো পড়ুনঃ সারন্য র বসন্ত উৎসব নজরুল তীর্থে – দেওয়া হলো রবিরশ্মি আবৃতি পুরস্কার – রইল ভিডিও

পুরুলিয়ার আনাচে কানাচে এই রকম মণিমুক্তো ছড়ানো রয়েছে। দোল পূর্ণিমার রাতে বনজ্যোতস্নার আলোয় ভেসে যাওয়া পলাশ বনের মধ্যে বান্দার দেউলে দাঁড়িয়ে থাকার অনুভূতি নেওয়ার জন্য আহবান করলাম বন্ধুদের।

ছবি ও লেখাঃ সৌরভ দাশগুপ্ত

- Advertisement -

আরো প্রতিবেদন

একটি মতামত জানান

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisement -

সদ্য প্রকাশিতঃ