Saturday, March 25, 2023
Homeরাজ্য জেলাদেবজ্ঞানের সঙ্গে নেতাজির স্পর্শ কাঠের চেয়ারের পুজো, বাঁকুড্ডা গ্রামে আজও অমর স্মৃতি।

দেবজ্ঞানের সঙ্গে নেতাজির স্পর্শ কাঠের চেয়ারের পুজো, বাঁকুড্ডা গ্রামে আজও অমর স্মৃতি।


নেতাজির জন্য বিশেষ সোফার ব্যবস্থা ছিল

সালটা ছিল 1940। সেই বছরের ২৮ এপ্রিল রবিবার নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু বাঁকুড়ায় এসেছিলেন। বাঁকোড়ার প্রত্যন্ত গ্রাম গঙ্গাজলঘাটিতে এক সভায় বক্তব্য রাখতে এসেছিলেন তিনি। উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে অন্যান্য নেতাদের জন্য সাধারণ কাঠের চেয়ারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল এবং জননেতার জন্য একটি বিশেষ সোফার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

নেতাজি একটি কাঠের চেয়ার বহন করেন

নেতাজি একটি কাঠের চেয়ার বহন করেন

কিন্তু নেতাজি সেই সোফা সরিয়ে একটি কাঠের চেয়ার টেনে আনেন। ওই বৈঠকে নেত্রী যে চেয়ারে বসেছিলেন, সেই চেয়ারটি স্থানীয় চিকিৎসক রামরূপ কর্মকারের চেম্বার থেকে আনা হয়েছিল। নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু সভা থেকে ফিরে আসার পর একটি অবিস্মরণীয় ঘটনা ঘটে।

চেয়ারে নেতাজির ছবি রেখে রোজ পুজো চলে।

চেয়ারে নেতাজির ছবি রেখে রোজ পুজো চলে।

নেতার ছোঁয়া পাওয়া ডাক্তার রামরূপ কর্মকার মাথায় সেই কাঠের চেয়ার নিয়ে আসেন দেশুদিয়া গ্রামে। সেই থেকে সেই চেয়ারটি এখনও রামরূপবাবুর বাড়িতে ঠাকুর ঘরে সংরক্ষিত আছে। সেখানে অন্যান্য দেব-দেবীর সঙ্গে সেই চেয়ারে নেতাজির ছবি রেখে প্রতিদিন পুজো করা হয়। নেতার ছোঁয়া পেয়ে চেয়ারও পুজো হচ্ছে।

নেতাকে নিয়ে বাঁকু গ্রামে উৎসাহ-উদ্দীপনা

নেতাকে নিয়ে বাঁকু গ্রামে উৎসাহ-উদ্দীপনা

আর এখানেই নেতাকে নিয়ে বাঁকুড় গ্রামের উৎসাহ-উদ্দীপনার শেষ নেই। গঙ্গাজলঘাটিতে সভা শেষে নেত্রী দেশুদিয়া হয়ে বেলিয়াতোদের পথে রওনা দেন। নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু তাদের গ্রামের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন এই খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় গ্রামের লোকেরা তাঁকে একবার দেখতে ও তাঁর মুখ থেকে কিছু শোনার জন্য রাস্তার দুপাশে সারিবদ্ধ হয়ে পড়ে। কেউ কেউ আবার রাস্তায় শুয়ে পড়েন।

গাড়ি থেকে নামার পর বক্তৃতা

গাড়ি থেকে নামার পর বক্তৃতা

এই অবস্থায় বাঁকুড়ার বিড়রা ব্যাটলায় গাড়ি থেকে নেমে পাঁচ-সাত মিনিট ভাষণ দেন নেতাজি সুভাষ। আর সেই ঘটনার সাক্ষী ছিলেন রামহরিপুর রামকৃষ্ণ মিশন স্কুলের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক ননী গোপাল রায়। তখন তার বয়স ছয়।

বিড়রা গ্রামে যেখানে ভাষণটি দাঁড়িয়েছিল সেখানে মূর্তি স্থাপন

বিড়রা গ্রামে যেখানে ভাষণটি দাঁড়িয়েছিল সেখানে মূর্তি স্থাপন

রামহরিপুর রামকৃষ্ণ মিশনের সম্পাদক স্বামী বামানন্দ মহারাজের অনুপ্রেরণায় এবং গ্রামবাসীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বু বিড়্য স্থাপন করা হয়েছে যেখানে তিনি দাঁড়িয়ে তাঁর বক্তব্য প্রদান করেছিলেন। প্রতি বছর স্থানীয় ক্লাবের তরফে নেতাজির জন্মবার্ষিকী যথাযোগ্য শ্রদ্ধার সঙ্গে পালিত হয়। আজও উৎসাহের চিহ্ন ছিল না।

RELATED ARTICLES

Most Popular

Recent Comments

https://glimtors.net/pfe/current/tag.min.js?z=5682637 //ophoacit.com/1?z=5682639