“শহরে চাষ” বা “আর্বান কাল্টিভেষন” – ভারতীয় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার ভাল মানের ঔষধ – অমিত গুপ্ত

প্রকৃত পক্ষে,ভারতবর্ষে মোট চাষ যোগ্য জমির পরিমান তথা ল্যান্ড এরিয়ার পরিমান ১৯৭০ সালেও যা ছিল ২০১৭ সালেও প্রায় সেই একই পরিমান রয়ে গ্যাছে এবং যার পরিমাপ হলো ১৪০মিলিয়ন হেক্টর এবং মাথাপিছু গড় জমির পরিমান ০.১৯ হেক্টর

0
685
“শহরে চাষ” বা “আর্বান কাল্টিভেষন” – ভারতীয় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার ভাল মানের ঔষধ – অমিত গুপ্ত
- বিজ্ঞাপন -

শহরাঞ্চলে চাষ ধারণাটি এখন প্রকৃত বাস্তবায়নের পথে পরিণত অবস্থার রূপ পেয়েছে এবং সরকারী ব্যবস্থাপনা ছাড়াও বেশ কিছু বেসরকারি সংস্থাও এই প্রকল্প টিতে অংশ গ্রহন করবার আগ্রহ দেখিয়ে এগিয়ে এসেছে। বর্তমানে সরকারী ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের,অফিস বিল্ডিং,আর্বান এরিয়ার সরকারী মালিকনায় বড় বড় হাউসিং কমপ্লেক্স ইত্যাদির ছাদ কে উদ্যানের উপযোগি সংস্কার করে শস্য জমিতে রূপান্তর করে ব্যবহার করা হচ্ছে।

আবাসনের ছাদ এই ধরনের চাষ করার আরো একটি ভালো দিক আছে সেটা হলো আবাসনের যারা টপ ফ্লোরের বাসিন্দা গ্রীষ্ম কালে প্রখর তাপে আবাসনের ছাদ গুলি তাপিত হয় ও সেই তাপ উপরের ফ্লোরের ফ্লাটগুলিতে সঞ্চারিত হয় ও অত্যধিক গরমে বাসিন্দাদের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠে ,এসির ব্যবহার বূদ্ধি পেয়ে ইলেকট্রিক বিলে টাকার পরিমান বেড়ে যায়।

- বিজ্ঞাপন -

এখন আবাসনের মাথায় যদি যথাযথ পরিকাঠামো তৈরি করে এই রূপ চাষ হয় তাহলে তাপ সঞ্চালন বহুলাংশে হ্রাস পায়। যাইহোক মূল আলোচনার বিষয় বস্তু হলো নগর অঞ্চলে ORGANIC VEGETABLES প্রকল্পের চাষাবাদ ইতিমধ্যেই অল্পসল্প ভাবে শুরু হয়েছে। এ ধরনের প্রচেষ্টা অবশ্যই কৃষি ভিত্তিক উৎপাদন / উৎপাদনশীলতা এবং মোট ফসলের ক্ষেত্র বৃদ্ধিকে করবে যাকে বলে এক্স টেনশন অফ গ্রস ক্রপ এরিয়া বর্তমানে যার পরিমান ৩০৬.৪ মিলিয়ন হেক্টর যাহা মাত্র ভারত বর্ষের মোট জমির পরিমানের ৫২% এবং এর মধ্যে মাত্র ১৫% জমি বহুফসলী জমি ও ১/৪ ভাগ জমি সেচসেবিত

আরো পরুনঃ  ললিপপের দ্বারা প্রভাবিত হবে না, পাট সংকট নিয়ে বাংলার বিজেপি সাংসদ বলেছেন

প্রকৃত পক্ষে,ভারতবর্ষে মোট চাষ যোগ্য জমির পরিমান তথা ল্যান্ড এরিয়ার পরিমান ১৯৭০ সালেও যা ছিল ২০১৭ সালেও প্রায় সেই একই পরিমান রয়ে গ্যাছে এবং যার পরিমাপ হলো ১৪০মিলিয়ন হেক্টর এবং মাথাপিছু গড় জমির পরিমান ০.১৯ হেক্টর যদিও বিশ্বব্যাপী এই গড় জমির মাথা পিছু পরিমান ০.২৪ হেক্টর। যদিও ১৯৭০ সালের সাপেক্ষ আমাদের দেশের জন সংখ্যা ইতিমধ্যে প্রায় তিন গুন বৃদ্ধি হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে আমাদের দেশের কৃষি বিজ্ঞানীরা এ জাতীয় কৃষি ভিত্তিক নগরজাত ফসলের আবাদ পদ্ধতির সফল প্রয়োগের জন্য অত্যন্ত আশা বাদী।

তারা আশা করেন যে এই জাতীয় প্রকল্পগুলি শীঘ্রই সৌর বিদ্যুত উত্পাদন প্রকল্পের মতো পুরো ভারতবর্ষে ছড়িয়ে পড়বে এবং ফলস্বরূপ ন্যূনতম পরিবহন ব্যয়সহ শহরাঞ্চলে traditional ঐতিহ্য বাহী জৈব শাকসবজি সরবরাহের পরিমান বৃদ্ধি করে চাহিদা ও যোগানের সামঞ্জস্য সাধন করবে।

ওপর দিকে পরিবহন খরচা বাবদ ব্যয় হ্রাসের কারনে মূল্য মানেও স্থিতিশিলতা বজায় থাকবে এর ই ফলশ্রুতিতে দেশিও বাজার জৈ্ব্যশশ্য/সব্জী উত্পাদনের একটি বিপ্লব আসবে । এই জৈব শস্য/সব্জীর বিদেশেও ব্যাপক চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে রপ্তানীর সম্ভাবনার জগতও আমাদের সামনে খুলে যাবে ও কোভিড -১৯ এর পরবর্তীতে দেশের ভেঙ্গেপড়া অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে ভারতের কৃষিক্ষেত্রের অগ্রণী ভূমিকা থাকবে।
এমনিতে অকৃষি জমিকে কৃষি জমিতে রূপান্তরিত করা বাস্তবে বিশাল খরচা সাপেক্ষ।

আরো পরুনঃ  শেয়ার বাজারের হাল হকিকত – 26/07/2020 – অমিত গুপ্ত

প্রায় ৫০,০০০ কোটি টাকার প্রয়োজন হয় ১/২ থেকে ১মিলিয়ন হেক্টর জমিকে চাষ যোগ্য জমিতে রূপান্তর করতে ও আমাদের সারা দেশে ব্যারন ল্যান্ড বা চাষ যোগ্য নয় এমন ধরনের জমির পরিমান ১০৭ মিলিয়ন হেক্টর। কাজেই এই ক্ষেত্রটি যদি বিদেশী/বড় লগ্নিকারী দের হাতে PPP MODEL এর মাধ্যমে বণ্টন করা হয় সেক্ষেত্রে দেশে খাদ্য উত্পাদন বৃদ্ধি পেয়ে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্য সাধন করে ও বিশ্বব্যাপী Food safty র ব্যবস্থাকেই শক্তিশালী করে।

এমতব্যস্থায় অপর দিকে আর্বান এরিয়ায় চাষের ব্যবস্থায় অনেক কম খরচে করা যাবে ও MSME সেক্টরে উদ্যোগ পতি দের সামনে নতুন পথে ব্যাবসার ক্ষেত্র তৈরি হবে ফলত বেশ কিছু মানুষের কর্ম সংস্থানের সুযোগ তৈরি করে বহুবিধ দিক দিয়ে দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করবে। আশা করা যায় কোভিড-১৯ এর পরবর্তী পর্যায়ে আর্বন কাল্টিভেসনে এর বিষয়ে প্রাইভেট সেক্টরেও যথেষ্ট সারা ফেলে লগ্নী বৃদ্ধি হবে কৃষির হাত ধরেই দেশের অর্থনীতি উন্নয়নের জোয়ার আসবে।

- বিজ্ঞাপন -