কোভিড- ১৯ ও দীর্ঘ লকডাউনে ভারতীয় অর্থনীতি ও জিডিপির ভূমিকা – অমিত গুপ্ত

0
339
কোভিড- ১৯ ও দীর্ঘ লকডাউনে ভারতীয় অর্থনীতি ও জিডিপির ভূমিকা – অমিত গুপ্ত
- বিজ্ঞাপন -

এটি সত্য যে কোভিড-19 ও তত জনিত দীর্ঘ দু মাস লকডাউন জনিত পরিস্থিতিতে ভারতীয় ম্যাক্রো অর্থনীতিতে উত্পাদন ক্ষেত্রের ক্ষমতা ব্যাপক মাত্রায় কমেছে ও 12% থেকে কমে 2% নেমেছে , একই সাথে জিডিপি বৃদ্ধির হারও হ্রাস পেয়ে 4.2% হয়েছে যে বৃদ্ধির হার গত ত্রৈমাসিকে ছিল ৫ % এবং যেখানে ২০১৪ সালে জিডিপি বৃদ্ধির হার সর্বোচ্চ উচ্চতা 9.6% কে স্পর্শ করেছিল।

ভারতীয় মুদ্রাও দাম মার্কিন ডলারের তুলনায় 4% এর চেয়ে বেশি ডিফল্টেড হয়ে ৬ বছরের তলানিতে স্পর্শ করেছে। সুখের কথা এই যে পূর্বে আমাদের দেশে অপরিশোধিত তেলের ইনপুট ব্যয় পূরণের জন্য মূল ধনের উপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টি করতো, ২০১৮ সালে অপরিশোধিত তেলের অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও ফলতই আমদানির পরিমান ও খরচ উভয়ই উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ছে যেটা ২০১৭ সালের এর তুলনায় প্রায় ৯৩০০০ ব্যারেল বেশী এবং ভারত এখন তৃতীয় সর্বোচ্চ তেল আমদানি কারক দেশ হিসাবে স্থান ছিল।

- বিজ্ঞাপন -

কিন্তু বর্তমানে লকডাউন জনিত পরিস্থিতির জন্য বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত তেলের চাহিদা ব্যাপক হ্রাসের কারনে এই তেলের দাম বর্তমানে বিশ্ব বাজারে তলানিতে এসে ঠেকেছে ও স্বাভাবিক ভাবেই আমাদের দেশেও তেলের চাহিদা কমছে। চাহিদা কমা ও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কম হওয়ায় আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা ভান্ডারের ওপর চাপ বহুলাংশে কমে গ্যাছে।

আরো পরুনঃ  বেইজিং 2022 কিভাবে টোকিও 2020 থেকে আলাদা হবে?

অন্যদিকে বিশ্বব্যাপী মন্দা জনিত কারন আমাদের বৈদেশিক অর্থনীতিতে আস্তে আস্তে ভারতীয় পণ্য রফতানির সম্ভাব্যতার উপরও বিরূপ প্রভাব ফেলছে এবং ফলস্বরূপ বাণিজ্য ঘাটতিও বাড়ছে যার ফলে কারেন্ট একাউন্ট ডেফিসিট (সিএডি) ব্যবধান আরও বূদ্ধি পাচ্ছে।
কেবল আশা ব্যঞ্জক তথ্য হ’ল আমাদের ফোরেক্স রিজার্ভটি এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৪২৪.৮ বিলিয়ন ডলার হিসাবে দাঁড়িয়েছে অবশ্য সে গল্পের চরিত্র আলাদা।।

এটা অনেক মানুষই প্রশ্ন করেন যে জিডিপি গ্রোথ ঠিক কী সূচিত করে ? এককথায় জিডিপিগ্রোথ রেট দেশের অর্থনীতির স্বাস্থ্যের অবস্থাকে ই সূচিত করে।তবে জাতীয় ক্ষেত্রে এই অতীব গুরুত্ব পূর্ণ অর্থনৈতিক INDICATOR টির বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা আছে যার দু একটি উদাহরণ দেওয়া হলো ।

যেমন, এই যে GDP GROWTH RATE দেশের সাধারণ মানুষের জীবন যাত্রার মানের স্বাস্থ্য নির্দেশ করেনা। সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা ও জীবনযাত্রার মানদণ্ডের সাথে জিডিপি বৃদ্ধির কোনও প্রাসঙ্গিকতা নেই এছাড়া , স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে শিশুমূত্যু ,শিক্ষা ক্ষেত্রে স্কুল ছুটের হার/অনুপাত বা শিক্ষার মান বিচারও করেনা।

বর্তমানে জিডিপি গ্রোথ কেবল ৪.২% হ্রাস পেয়েছে1ভারতবর্ষে র্জডিপির কোনও প্রাসঙ্গিকতা কম যেহেতু সম্পদের ঘনত্বের কারণে দক্ষিণ ধারণার অর্থনৈতিক বৈষম্য খুব বেশি, যেখানে ৮০% সম্পদ জমা হয় মাত্র 52 পরিবার। সুতরাং, টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন / বৃদ্ধি প্রকৃত পরিমাপকে চিত্রিত করে না যা ভারতীয় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার স্তরকে প্রতিফলিত করে।

আরো পরুনঃ  শেয়ার বাজারের হাল হকি কত - 30/08/2020 - আমিত গুপ্ত

এটি সত্য যে দরিদ্রতম মানুষদের ন্যূনতম মৌলিক ব্যায় নির্বাহের প্রয়োজনীয় ব্যয়গুলি করার সামর্থের সীমারেখাও ক্রমেই সঙ্কুচিত হয়েছে ও অল্প পরিমাণ অর্থের বিনিময় তাহা সম্পাদিত করতে বাধ্য হচ্ছে ফলতঃ তাদের জীবনযাত্রার মানের সঙ্কোচন করতে বাধ্য হচ্ছে এবং এইভাবে তাদের ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তার জন্য উদ্বেগ জনিত কারনে অসুস্থতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে যার মূল কারনই হলো ভারতবর্ষের উচ্চ অর্থনৈতিক বৈশম্যতা যার কারণেই আজ ভারতীয় অর্থনীতিতে সম্পদ বণ্টনের বহমান অসাম্য মাত্রহীন যেটা দেশের GDP বূদ্ধি হারের ওপর আদৌ নির্ভর শীল নয়।।

- বিজ্ঞাপন -