Sunday, June 13, 2021

আত্মহত্যা!! প্রাচীনকালের মুনি ঋষি থেকে আজকের হাইটেক দুনিয়ার রথী – মহারথীদের বক্তব্য! – নির্মাল্য দাশগুপ্ত

শরীরে তীব্র বিষের যন্ত্রণা সহ্য করেও মৃত্যুর পূর্বে তার বলা শেষ বাক্য ছিল, ‘ক্রিটো, অ্যাসক্লেপিয়াস আমাদের কাছে একটি মোরগ পায়, তার ঋণ পরিশোধ করতে ভুলো না যেন।

অবশ্যই পরুনঃ

স্টুডেন্টস আজকে আমি তোমাদের আত্মহত্যা নিয়ে পড়াবো, মানে আজকের ক্লাসের বিষয় আত্মহত্যা। না, তোমাদের কোন বাজারি নোট লেখাবনা বা ফেসবুক থেকে কালেকশন করে বা অন্যের লেখা ঝেড়ে সাজেশন দেবনা।

চিরাচরিত ভাবে প্রতি ক্লাসে যেমন নিজের জ্ঞান, বিদ্যা, বুদ্ধির উপরে ভরসা করে বক্তৃতা দেই, আজকেও তাই দেব।

আত্মহত্যা!! প্রাচীনকালের মুনি ঋষি থেকে আজকের হাইটেক দুনিয়ার রথি-মহারথিদের বক্তব্য হচ্ছে আত্মহত্যা মহা পাপ আর তাতে নরকবাস গ্যারান্টিযুক্ত। স্বেচ্ছামৃত্যু ও আত্মহত্যার মধ্যে একটা সূক্ষ্ম প্রভেদ আছে। স্বেচ্ছামৃত্যুর মধ্যে একটা ইয়ে ইয়ে ভাব আছে যাতে বীর রসের স্বাদ পাওয়া যায়, যেমন পিতামহ ভীষ্মের কথা ধরলে দেখা যায় তিনি চাইলে আজীবন শরশয্যায় শুয়ে কাটিয়ে দিতে পারতেন কিন্তু সেটা না করে ইচ্ছামৃত্যু বরন করেছিলেন।

অনুশোচনা

স্বেচ্ছামৃত্যু বা ইচ্ছামৃত্যু অনেকটা আত্মহত্যার মত হলেও আইনজীবীরা আদালতে প্রমাণ করে ছেড়েছিল ইহা আইনের কোন ধারাতেই আত্মহত্যা নয়। স্বেচ্ছামৃত্যু হয় বীরদের আর আত্মহত্যা করে কাপুরুষের দল। যেকোনো সময় মৃত্যু হতে পারে যেনেও যেসব পরিযায়ী শ্রমিকের দল হাজার কিলোমিটার পথ হেঁটেছিল আর হাঁটতে হাঁটতেই পথে লুটিয়ে পরেছিল তাদের কেস হত্যা নাকি আত্মহত্যা হিসাবে ধরা হবে তা নিয়ে এখন চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।

আরো পরুনঃ  রাজীব গান্ধীকে কারা খুন করেছিল? কেন খুন করেছিল? - নির্মাল্য দাশগুপ্ত
আরো পরুনঃ  রাজীব গান্ধীকে কারা খুন করেছিল? কেন খুন করেছিল? - নির্মাল্য দাশগুপ্ত

স্টুডেন্টস আজকে আমি এমন একজনের আত্মহত্যার কথা শোনাবো যা প্রায় ২৫০০ বছর পরেও মানুষের মুখে মুখে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সক্রেটিস! হ্যাঁ সক্রেটিসের মৃত্যুর ঘটনাকে খুন, আত্মহত্যা বা স্বেচ্ছামৃত্যু যাখুশি হিসাবে ধরে নেওয়া যায়। খুন বলা যায় এইকারনে যে ওনাকে বাধ্য করা হয়েছিল বিষপান করার জন্য। আবার স্বেচ্ছামৃত্যু বলা যেতে পারে কারন তিনি চাইলেই ক্ষমা চেয়ে নিজেকে মৃত্যুর হাত থেকে বাচাতে পারতেন বা রক্ষিদের ঘুষ দিয়ে জেল থেকে পালাতে পারতেন।

আমি বলব উনি আত্মহত্যা করেছিলেন এবং এরকম গৌরবময় আত্মহত্যার ঘটনা ইতিহাসে বিরল। সক্রেটিস রাজা ও বিচারকের শর্ত দিয়েছিলেন তিনি বিষপান করে মৃত্যুগ্রহন করতে রাজী কিন্তু সেটা তিনি করবেন তার প্রিয় শিষ্যদের সামনে। নির্দিষ্ট দিনে ওনার শিষ্যরা একে একে কারাগারে প্রবেশ করে সক্রেটিসকে শেষ দেখা দেখতে এলেন। সক্রেটিস তখন তার প্রিয় শিষ্যদের বলেছিলেন এতদিন ধরে আমি তোমাদের জীবন দর্শন শিখিয়েছি আর আজকে শেখাব আর একরকম দর্শন।

আত্মহত্যা

সক্রেটিস সেদিন তার শিষ্যদের বলেছিলেন বিষপান করার পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত যে সময়টা পাবে সেটাই তোমরা মনযোগ সহকারে দেখবে আর পরে লিপিবদ্ধ করবে আমার প্রতিটি কথা আর মৃত্যুর প্রকৃতরূপ। যদিও প্লেটো সেদিন উপস্থিত ছিলেননা কারাগারে কিন্তু বাকি শিষ্যদের থেকে শুনে সেদিনের সব ঘটনা লিপিবদ্ধ করেছিলেন যেটা পরে বাকি পৃথিবী জানতে পেরেছিল।

আরো পরুনঃ  হেলপ্পস - বিনামুল্যে অক্সিজেন, ডাক্তারি পরামর্শ, কোভিডে প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রদানের সাথে সাথে পারিযায়ী শ্রমিক দের ঘরে ফেরানোর উদ্যোগ নিলেন দেব, রাজদীপ রা।
আরো পরুনঃ  এখন আপনার স্মার্টফোন এপ এ মাপুন অক্সিজেন স্যাচুরেশন, হার্ট ও পালস রেট - অভিষেক সেনগুপ্ত, মনসিজ সেনগুপ্ত ও শুভব্রত পালের যুগান্তকারী আবিষ্কার।

আবার ফিরে আসি সেই গৌরবময় আত্মহত্যার বিবরণ নিয়ে। নির্দিষ্ট সময় ঘাতক এক বাটি সাপের বিষ নিয়ে হাজির হয় সক্রেটিসের বন্দীগৃহে এবং সেই তীব্র গরল তুলে দেয় সক্রেটিসের হাতে। সক্রেটিস এরপর তার শিষ্যদের বলেন এবার আমি নির্দেশ মত বাটির পুরো বিষটাই চেটেপুটে খাব এবং তারপর কারাগারের ভিতরে পাইচারি করব যাতে বিষটা খুব দ্রুত আমার শরীরে ছড়িয়ে পরে। কথামতো সক্রেটিস বিষপান করে পাইচারি শুরু করলেন আর সাথে শুরু করলেন শিষ্যদের প্রতি তার শেষ দর্শনের বক্তৃতা।

তিনি আত্মহত্যা বেছে নিয়েছিলেন আর এর পেছনে ছিল সেই মহত্তম শিক্ষা দেয়ার অন্তিম বাসনা। এই শিক্ষার জন্যই সক্রেটিস মরেও অমর। আর সেই শিক্ষাটা হলো, মানুষের নিরর্থক তুচ্ছ জীবনের একমাত্র অর্থবোধকতা আসতে পারে, যদি সেই জীবন কোন হিতকর আদর্শের জন্য উৎসর্গিত হয়।

তা নাহলে এই জীবনের সকল কর্ম বৃথা। ধীরে ধীরে সক্রেটিসের পা টলমল করে ওঠে আর কথা জড়িয়ে আসতে থাকে। শরীরে তীব্র বিষের যন্ত্রণা সহ্য করেও মৃত্যুর পূর্বে তার বলা শেষ বাক্য ছিল, ‘ক্রিটো, অ্যাসক্লেপিয়াস আমাদের কাছে একটি মোরগ পায়, তার ঋণ পরিশোধ করতে ভুলো না যেন।’ অ্যাসক্লেপিয়াস হচ্ছে গ্রিকদের আরোগ্য লাভের দেবতা। সক্রেটিসের শেষ কথা থেকে বোঝা যায়, তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন মৃত্যু হলো আরোগ্য ও দেহ থেকে আত্মার মুক্তি।

আরো পরুনঃ  প্রাইভেট চেম্বার ফেলে রাস্তায় পড়ে থাকা মহিলা কে সুস্থ করে তুললেন ডাঃ রাজেশ রায়।
আরো পরুনঃ  বারুইপুর পুলিশ জেলার উদ্যোগে গোসাবা থানার ব্যবস্থাপনায় 'ইয়াস' বিধ্বস্ত সুন্দরবনবাসীর দুবেলার খাবারের জন্য আমাদের প্রয়াস -"দুবেলার হেঁসেল"

তিনি মৃত্যুর আগে একটি কথা বলেছিলেন, তারা আমার দেহকে হত্যা করতে পারবে কিন্তু আমার আত্মাকে নয়।
আজকের মত ক্লাস শেষ, পরের ক্লাসে আবার অন্য কোনো বিষয় নিয়ে পড়াব।

পূর্ববর্তী নিবন্ধBindigasm's Advi Designer Jhumki Blouse
পরবর্তী নিবন্ধINDO ERA Women's pure cotton Straight Kurta sets With Palazzos (Black)
- Advertisement -

আরো প্রতিবেদন

একটি মতামত জানান

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisement -

সদ্য প্রকাশিতঃ