রাজীব গান্ধীকে কারা খুন করেছিল? কেন খুন করেছিল? – নির্মাল্য দাশগুপ্ত

0
644
রাজীব গান্ধীকে কারা খুন করেছিল? কেন খুন করেছিল? – নির্মাল্য দাশগুপ্ত
- বিজ্ঞাপন -

রাজীব গান্ধীকে কারা খুন করেছিল? প্রভাকরণের দল এলটিটিই। কেন খুন করেছিল? রাজীব গান্ধী শ্রীলঙ্কাতে শান্তি সেনা পাঠিয়েছিলেন শ্রীলঙ্কার গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটানোর জন্য। রাজীব গান্ধী দেশের টাকায় শ্রীলঙ্কায় গৃহযুদ্ধ থামাতে গেলেন কেন? রাজীব গান্ধীর খুব দাদাগীরি করার ইচ্ছে হয়েছিল এশিয়ার ছোট ছোট দেশগুলোর উপরে। হ্যাঁ ঠিক এইভাবেই রাজীব গান্ধীর খুন কে জাস্টিফাই করেছিল তৎকালীন বাম আর বিজেপি দল। আসলে রাজীব গান্ধী খুন হয়েছিলেন চীনের একটা ভারত বিরধী পরিকল্পনা ব্যার্থ করার জন্য। অতীতে রামভাম প্রচার অনেক শুনেছেন এবার অপপ্রচার ছেড়ে সত্যি ঘটনাটা জানুন।

- বিজ্ঞাপন -

শ্রীলঙ্কান রাষ্ট্রপতি জুলিয়াস জয়াবর্ধনে তামিলদের সাথে দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ করে অসম্ভব ক্ষয়ক্ষতি স্বীকার করার পরেও যখন জয়লাভ করতে বা গৃহযুদ্ধ থামাতে ব্যার্থ হয় তখন বাধ্য হয়ে ভারতের কাছে সামরিক সাহায্য প্রার্থনা করে। প্রাথমিকভাবে রাজীব গান্ধী শ্রীলঙ্কার সেই আবেদন নাকচ করে জানিয়ে দেয় ভারতের নীতি অনুযায়ী আক্রান্ত না হলে আক্রমণ ও অন্য দেশে সেনাবাহিনী পাঠানো সম্ভব নয়। এদিকে শ্রীলঙ্কার গৃহযুদ্ধের ফলে প্রতিদিন হাজার হাজার তামিল শ্রীলঙ্কা থেকে পালিয়ে লুকিয়ে ভারতে আশ্রয় নিতে থাকে আর এরফলে তামিলনাড়ুর জনগণের মধ্যে ধীরে ধীরে একটা ক্ষোভ জন্মাতে থাকে।

তামিলদের ক্ষোভকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানাতে শুরু করে তামিলনাড়ুর কংগ্রেস বিরোধী দলগুলো। একদিকে তামিল শরনার্থীদের চাপ আর একদিকে কংগ্রেস বিরোধী দলগুলোর সুযোগ সন্ধানী রাজনৈতিক ক্রীয়াকলাপে রাজীব গান্ধী যখন দিশাহারা ঠিক তখনই শ্রীলঙ্কার জয়াবর্ধনে সরকার ঘোষণা করে ভারত যদি তাদের সাহায্য না করে তবে তারা চীনের সেনাবাহিনীর সাহায্য নেবে আর বিনিময়ে শ্রীলঙ্কার নৌবন্দরে চীনা সেনাকে একটা নেভাল বেস বানাতে দেবে। শরনার্থীদের আর বিরোধীদের চাপ সহ্য করার ক্ষমতা যদিওবা রাজীব গান্ধীর ছিল কিন্তু ঘাড়ের উপরে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনা নেভাল বেস বানাতে দেবার সম্ভব ছিলনা। একবার যদি চীন শ্রীলঙ্কার সামুদ্রিক বন্দর ব্যাবহার করে তাদের নেভাল বেস বানিয়ে ফেলত তবে সেটা হত ভারতের পক্ষে কূটনৈতিক ও সামরিক ব্যার্থতা। এরপরই রাজীব গান্ধী বাধ্য হয় শ্রীলঙ্কায় সেনা পাঠাতে।

আরো পরুনঃ  সিএএ, বিএসএফ, আইনশৃঙ্খলা নিয়ে অমিত শাহ, মমতা বাণিজ্য বাণিজ্য

১৯৮৭ সালের ২৯ জুলাই ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী এবং শ্রীলঙ্কান রাষ্ট্রপতি জুলিয়াস রিচার্ড জয়াবর্ধনে ভারত–শ্রীলঙ্কা শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তি অনুসারে শ্রীলঙ্কান সরকার শ্রীলঙ্কার প্রদেশগুলোর ক্ষমতা বৃদ্ধি, গণভোটের মাধ্যমে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোকে সংযুক্ত করে একটি একক প্রদেশে রূপান্তর এবং তামিল ভাষাকে রাষ্ট্রীয় ভাষার মর্যাদা প্রদান প্রভৃতিসহ শ্রীলঙ্কান বিদ্রোহীদের বেশ কয়েকটি দাবি মেনে নেয়। বিনিময়ে ভারত উত্তর ও পূর্ব শ্রীলঙ্কায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে ভারতীয় সৈন্য মোতায়েন এবং তামিল বিদ্রোহীদের সহায়তাদান বন্ধ করতে রাজি হয়।

অন্তিম মুহূর্ত

এলটিটিই-সহ অন্যান্য তামিল বিদ্রোহী দলগুলো প্রথমে অনিচ্ছুক হলেও পরে ভারতীয় শান্তিরক্ষীদের কাছে অস্ত্রসমর্পণ করতে রাজি হয় এবং ভারতীয় শান্তিরক্ষীরা প্রাথমিকভাবে একটি যুদ্ধবিরতি ও সশস্ত্র দলগুলোর আংশিক নিরস্ত্রীকরণ তত্ত্বাবধান করে। অধিকাংশ তামিল বিদ্রোহী দল অস্ত্রসমর্পণ ও সংঘাতটির শান্তিপূর্ণ সমাধানে সম্মত হলেও এলটিটিই তার যোদ্ধাদের নিরস্ত্র করতে অস্বীকৃতি জানায়। তখন চুক্তির সফলতা নিশ্চিত করার জন্য ভারতীয় শান্তিরক্ষী বাহিনী জোরপূর্বক এলটিটিইকে নিরস্ত্র করার চেষ্টা চালায় এবং পরিণতিতে এলটিটিই-এর সঙ্গে তাদের পুরোদমে যুদ্ধ শুরু হয়।

এই ঘটনা আমাদের দেশের দক্ষিণের তামিল জনসাধারণ আর রাজনৈতিক দলগুলো ভালোভাবে মেনে নিতে পারেনি উপরন্তু ছিল বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্ররোচনা। এরপরই প্রভাকরণ রাজীব গান্ধীকে হত্যার পরিকল্পনা করে ও একসময় সফল হয়। মজার ব্যাপার হচ্ছে রাজীব গান্ধী কবে কোথায় খুন হতে পারে তার আগাম খবর পেয়ে গিয়েছিল ভারতীয় গোয়েন্দাদের দল কিন্তু কি এক অদ্ভুত কারনে সবাই হাত গুটিয়ে বসেছিল।

আরো পরুনঃ  বাংলা নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা | TMC নেতা অনুব্রত মন্ডল সিবিআই জিজ্ঞাসাবাদ এড়িয়ে গেছেন, অসুস্থতার কথা বলেছেন

এত বছর পরে শ্রীলঙ্কা সরকার বিজেপি সরকারের নাকের ডগা দিয়ে নিজেদের সামুদ্রিক বন্দর চীনা সেনাবাহিনীর ব্যাবহারের জন্য তুলে দিল।

- বিজ্ঞাপন -